হুগলি, ১০ অক্টোবর:- গ্রামে রয়েছে পতিদূর্গা মন্দির। তাই গ্রামে আর কোনো হয় না বারোয়ারি দুর্গাপুজো। একমাত্র এই পতিদূর্গা পুজো কে ঘিরে পুজোর কটা দিন আনন্দ উল্লাসে মেতে ওঠে হিন্দু, মুসলিম, আধিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। হাঁড়ি সম্প্রদায়ের গুরু মন্ত্রে শিব পার্বতীর পুজো হয় এই মন্দিরে। হয়না কোনো পুরোহিতের মন্ত্র উচ্চারণ। শুধুমাত্র ভক্তিভরে পুজো করলেই মেলে মনের মনস্কামনা। তাই জাগ্রত পতিদূর্গা-র মন্দিরে পুজো দিতে দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে ভীড় জমায়। হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন শাখার হাজিগর রেলস্টেশন। স্টেশন থেকে পায়ে হেঁটে আধ ঘন্টার পথ পেরোলেই ধনিয়াখালি ব্লকের ছোট্ট গ্রাম পলাশি। গ্রামে হিন্দু, মুসলিম সহ অধিবাসী সম্প্রদায় মিলিয়ে ৭৫০০ জন বসবাস করে। কথিত রয়েছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে গ্রামের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘিয়া নদী থেকে উদ্ধার হয়েছিল মাটির ঘট। গ্রামের হাঁড়ি সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা নির্জন দুপুরে ভিক্ষা করতে করতে নদীর পাড়ে গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়ার সময় ঘুমিয়ে পড়ে।
তখন কুমারী বেশে মা দুর্গা স্বপ্নাদেশ দেয় বৃদ্ধাকে। সেই মাটির ঘট কে তালপাতার ছিঁটেবেড়ার ঘরে প্রতিষ্ঠা করে শুরু হয়েছিল দুর্গোপুজো। পরবর্তীকালে গুড়াপ এর ব্যবসায়ী বিজয় নন্দী মন্দির তৈরি করে দিয়েছিলেন। মাটির এই পতিদূর্গার ডানদিকে শিবের পাশে রয়েছে নন্দী ও দুর্গার পাশে রয়েছে ভৃঙ্গী। প্রতিদিন পুজো ও আরতি হলেও দুর্গাপুজোর সমস্ত রীতি ও নির্ঘন্ট মেনে বোধন থেকে সন্ধিপুজো হয় নিয়ম মেনে। সন্ধিপুজোয় ছাগ বলী হলেও হয়না কোনো কুমারী পুজো। নবমীর দিন সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মহিলা পুরুষ রা দলগত হয়ে ধামসা মাদলের তালে নাচগান করে। পুজোকে ঘিরে গ্রামে বসে মেলা। গ্রামের মুসলিম সম্প্রদায়ের সকলেই পুজোর কটা দিন মিলিত হয় পতিদূর্গা মন্দিরে। কথিত আছে, কয়েক দশক আগে এই পলাশি গ্রামে কয়েকজন গ্রামবাসী দুর্গাপুজো চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিল।
কিন্তু গ্রামে মড়ক ও বিভিন্ন দূর্ঘটনা ঘটে যাওয়ায় দুর্গাপুজো অসম্পাত হওয়ার কারনে, আজ পর্যন্ত গ্রামের কোনো বারোয়ারি দুর্গাপুজো করার সাহস পায়নি। সেই থেকে এই পলাশি গ্রামে হয় না কোনো দুর্গাপুজো। তবে বর্তমানে এই পতিদূর্গা মন্দিরের দেয়ালে ধরেছে ফাটল। মন্দিরের দেওয়ালের রঙ হয়ে উঠছে ক্রমশ ফ্যাকাসে। খসে পড়ছে দেওয়াল থেকে প্যালেস্তারা। মন্দির রক্ষণাবেক্ষণের দাবি তুলেছে গ্রামবাসীরা। ভোট বৈতরণী পার করতে এই মন্দিরে এসে পুজো দিয়েছেন ধনেখালির বিধায়ক অসীমা পাত্র ও হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাই সরকারি সাহায্যে মন্দিরের দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ। পুজোর চারদিনের আনন্দের জন্য তাকিয়ে থাকে পলাশি গ্রামের আট থেকে আশি সব ধর্মের মানুষজন।








