হুগলি, ১০ অক্টোবর:- জেলার ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামপুর শহরের গঙ্গা লাগোয়া কুন্ডু বাড়ির পুজো ১৩৭ তম বর্ষে পদার্পন করেছে। হাওড়া-বর্ধমান মেইন লাইন শাখার শ্রীরামপুর স্টেশন থেকে দশ মিনিটের হাঁটা পথ পেরিয়ে শ্রীরামপুর কলেজের পাশে কুন্ডু বাড়ি। বর্তমানে প্রাচীন ভগ্নপ্রায় বাড়ির চারিদিকে শ্যাওলা, ফার্ন গাছ উঁকি দিচ্ছে বাড়ির আনাচে কানাচে। প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন বাড়ি সংলগ্ন ঠাকুর দালানে হয় মাতৃ আরাধনা। ১৮৮৫ সালে ব্যাবসায়ী থাকগোপাল কুন্ডু এই পূজো শুরু করে ছিলেন। ব্যাবসার কারনে উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ থেকে আখের গুড় ও বিহারের ভাগলপুর থেকে গাওয়া ঘি আসত বজরা করে। তার জন্য গঙ্গার ঘাট তৈরী করেছিলেন তিনি। আজও তার নামাঙ্কিত গঙ্গার ঘাট রয়েছে শ্রীরামপুর টেক্সটাইল কলেজের উল্টোদিকে।
কথিত আছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৭ পর্ষন্ত ব্রিটিশ সরকার এই কুন্ডু বাড়ি দখল নিয়ে সৈন্যদের থাকার জন্য সেনা ছাউনি তৈরী করেছিল। ফলে মাঝে কয়েক বছর বন্ধ হয়ে ছিল দুর্গাপুজো। জন্মাষ্টমীর দিন বাঁশ পুজো দিয়ে শুরু হয় প্রতীমার কাঠামো তৈরীর কাজ। পঞ্চমীর দিন থেকে শুরু হয় পুজো। আগে ঠাকুর দালান ছিল মাটির দেওয়াল ও খড়ের চাল। বর্তমানে ক্রংক্রিটের ঠাকুর দালানে হয় মাতৃ আরাধনা। পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে পরিবারের মঙ্গল কামনায় অষ্টমীর দিন কুমারী পুজোর পর পরিবারের সধবা মহিলারা ধূনি প্রজ্বলন করে। নবমীর দিন প্রতিবেশী সধবা ব্রাহ্মণ মহিলাদের পরিবারের মহিলারা পায়ে আলতা পড়িয়ে দেয়। কোভিড প্রোটোকল মেনে এইবছর পুজোর নৈবিদ্যে গোটা ফল দিয়ে পুজো করা হবে। পুজোর কটা দিন পরিবারের সকলে মিলিত হয়ে ঠাকুর দালানেই নানা অনুষ্ঠান আর খেলাধুলোতে মেতে থাকে আট থেকে আশি সকলেই। তারজন্য ঠাকুর দালানে চলছে ছোটদের অনুষ্ঠানের মহড়া। আগের মতো পুজোর জাঁকজমক না হলেও ভাঁটা পড়েনি পুজোর নিয়মনীতি।







