এই মুহূর্তে জেলা

চন্দনযাত্রা উৎসব উপলক্ষে সকাল থেকেই মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ছিল উৎসবমুখর।

হুগলি, ২১ এপ্রিল:- সোমবার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ছিল উৎসবমুখর। সোমবার ছিল অক্ষয় তৃতীয়া। এদিনেই জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ভোর থেকে ভক্তরা মন্দিরে এসে প্রভু জগন্নাথ দেবের জন্য চন্দন বাটেন। সকাল সাড়ে দশটায় মহেন্দ্রক্ষণে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার মাথায় চন্দন লেপন করে, চন্দন যাত্রা সূচনা হয়। এই সময় মন্দিরের চত্বর জুড়ে জয় জগন্নাথ ধ্বনিতে মুখরিত ছিল। চন্দন যাত্রা উৎসবের বিষয়ে বলতে গিয়ে জগন্নাথ দেব ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানালেন যুগ যুগ ধরে শ্রীপাঠ মাহেশ ধামে ৬৩০ বছরের প্রাচীন স্বপ্নদৃষ্ট প্রভু জগন্নাথ দেবের এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয় হয়ে আসছে, প্রচন্ড দাবদাহে সমগ্র মনুষ্য কূল যেমন কাতর হন, তেমনি প্রভু জগন্নাথ দেবেরও এই গরমে শির পীড়া হয়, এরই জন্য প্রভুর আরামের জন্য মাথায় চন্দন লেপন করা হয় এবং এই পর্বটি স্থানযাত্রা পর্যন্ত প্রতিদিন চলে। পিয়াল অধিকারি জানান অতীতে এই মন্দিরে বহু বিখ্যাত প্রাতঃ স্মরণীয় ব্যক্তিদের পদদলিতে ধন্য হয়েছে মাহেশধাম।

চৈতন্য মহাপ্রভু, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা, গিরিশ ঘোষ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে বঙ্কিমচন্দ্র, বিদ্যাসাগরে মত মনীষীরা কোন না কোন সময়ে মাহেশের প্রভু জগন্নাথ দেবের দর্শন পেয়েছেন। পিয়াল বাবু বলেন আজকের দিনটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, বছরের চারটি দিন অত্যন্ত শুভ। দিনগুলি হল বিজয়া দশমী, পহেলা বৈশাখ, কার্তিক মাসের প্রথম দিন, এবং অক্ষয় তৃতীয়া, এর মধ্যে অক্ষয় তৃতীয়া সবথেকে শুভ দিন, এইদিনের পুরোটাই মহেন্দ্রক্ষন অর্থাৎ শুভ মুহূর্ত, এই দিনেই গঙ্গার মর্তে আগমন ঘটেছিল আজকের দিনটিকে পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবে ধরা হয়, এই দিনই ভক্ত সুদামাকে স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ রাজপ্রাসাদ উপহার দিয়েছিলেন, এই দিনই দ্বাপর যুগে ত্রেতা যুগের সূচনা হয়েছিল, মহাভারতের সূচনা হয়েছিল তাই এই দিনটির বিশাল মাহাত্ম্য রয়েছে। তাই প্রতিবারের মতো এবছরও আমাদের মাহেশের মন্দির উৎসবমুখর। সকাল থেকে দলে দলে ভক্তরা এসে পুজো দিয়ে গেছেন বাবা জগন্নাথের কাছে তাদের সংসারের সুখ সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেছেন। আজ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ব্যবসায়ীরা খাতা পুজো করেন।