হুগলি,২৭ জানুয়ারি:- রণক্ষেত্র ডানকুনি। নামলো র্যাফ, চললো কাঁদানে গ্যাস। আহত পুলিশ সহ সাধারণ অনেকেই। সাধারণতন্ত্র দিবসের মিছিলকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ১৩। মিছিল করে এসে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে। ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে বেশ কয়েকটি দোকানে। ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী। সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় পুলিশ এবং র্যাফের টহল চলছে। সাধারণতন্ত্র দিবসের মিছিল করছিল স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। ডানকুনি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মুখার্জি জানিয়েছেন, মিছিল চলাকালীন তাতে যোগ দিয়েছিল বেশ কিছু বিজেপি নেতা এবং কর্মি সমর্থকরা। মিছিল ডানকুনির দিল্লি রোড এবং দুর্গাপুর এক্সপ্রেস হাইওয়ের সংযোগস্থলে পৌঁছালে গোলমাল বাঁধে।
হঠাতই চায়ের দোকানে বসে থাকা তৃনমূল কর্মিদের উপর হামলা চালায় মিছিলে থাকা বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। মিছিল থেকে হঠাতই বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থক বেরিয়ে আসে, এবং সেখানে থাকা তৃণমূল কর্মীদের উপর লাঠি সোটা নিয়ে চড়াও হয়। এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা ধারণ করে। নির্বিচারে বেশ কয়েকটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে আসে ডানকুনি থানার পুলিশ বাহিনী। পুলিশের সামনেই চলে তান্ডব, চলে মারধর ভাঙচুর। রাতে আবার সংঘর্ষ বাঁধে ডানকুনি রেল ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। ব্রীজের নীচে বিজেপি পার্টি অফিস ভাঙচুরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং র্যাফ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হয় কনস্টেবল বুদ্ধদেব পর্বত সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মি। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হিমা নগর এলাকায় বেশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাল্টা অভিযোগ করেছেন বিজেপি শ্রীরামপুর জেলা সভাপতি শ্যামল বোস। তিনি বলেন, স্বাভাবিক ভাবেই মিছিল চলছিল, মিছিলের শেষের দিকে তৃণমূল তাঁদের কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।



