এই মুহূর্তে কলকাতা

একডালিয়ার পুজোর উদ্বোধনে সুব্রত মুখার্জির স্মৃতিচারণ মুখ্যমন্ত্রীর।



কলকাতা, ১৬ অক্টোবর:- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়র রাজনীতিক জীবনের একটি দীর্ঘ পর্ব জুড়ে সঙ্গে ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হওয়ার অনেক আগে থেকেই। সেই কংগ্রেসের সময় থেকে। শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়, ব্যক্তিগত স্তরেও মমতা ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বেশ সুমধুর সম্পর্ক ছিল। মমতাকে ভীষণ স্নেহ করতেন সুব্রতবাবু। কলকাতা পুরনিগমে তৃণমূল কংগ্রেস যখন প্রথমবার বোর্ড গড়ে তখনও মেয়র পদের জন্য মমতা সুব্রতকেই এগিয়ে দিয়েছিলেন। সেই সুব্রতবাবুর পুজো হিসাবে খ্যাত দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট এলাকার একডালিয়া এভারগ্রিনের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের মুহুর্তে মমতা স্মৃতিচারণ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কলকাতার প্রয়াত মেয়রকে। সেই সঙ্গে জানালেন খুব শীঘ্রই কলকাতায় একটি রাস্তার নামকরণও করা হবে সুব্রতবাবুর নামে। পায়ের চোটের কারণে এইবছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা গিয়ে পুজোর উদ্বোধন করতে পারছেন না। চিকিৎসকদের নির্দেশ মতো তাঁকে বাড়িতে বিশ্রামনিতে হচ্ছে। তাই বাড়ি থেকেই তিনি কলকাতা ও জেলার পুজোর উদ্বোধন সারছেন ভার্চুয়াল মাধ্যমে। সোমবার তিনি সেই সূত্রেই একডালিয়া এভারগ্রিনের পুজোর উদ্বোধন করেন।

সেই সময়েই তিনি সুব্রতবাবুর স্মৃতিচারণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একডালিয়ার পুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন সুব্রতদা। তিনি আজ আমাদের মধ্যে নেই। কিন্তু সুব্রতদা যেখানেই থাকুক, আমাদের আওয়াজ ঠিক গিয়ে পৌঁছাচ্ছে তাঁর কাছে। আপনি আবার আমাদের মধ্যে জন্মগ্রহণ করুন, আমাদের মধ্যে ফিরে আসুন। সুব্রতদার মুখটা দেখলে খুব কষ্ট হয়। হাসিমুখটা খুব মিস করি। প্রতিবার বলত কী রে আমায় কবে সময় দিবি? কীভাবে লোকটা এত তাড়াতাড়ি চলে গেল! নিশ্চয়ই ট্রেটমেন্টে কোথাও ভুলভ্রান্তি ছিল বলে মানুষটা এত তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। প্রতিবার মায়ের সামনে নিয়ে গিয়ে আমায় শাড়ি দিত। একডালিয়া তাঁর জীবন ছিল। চারদিন আড্ডা মারত। সুব্রতদা আমায় দেখলেই আমায় একডালিয়ার মণ্ডপে পুজোর উদ্বোধনে এদিন উপস্থিত ছিলেন সুব্রতবাবুর স্ত্রী ছন্দবাণী দেবীও। তিনি এবার পুজোর প্রেসিডেন্ট। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় আবেগঘন হন তিনিও। ছন্দাবাণী দেবীর সঙ্গেও এদিন বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্ৰী। প্রয়াত নেতার স্ত্রীকে মমতা বললেন, ‘আমি যাব বৌদি। আমার পায়ে চোট আছে। ভাল হলেই যাব।’ সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, আগামী দিনে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নামে একটি রাস্তা বানিয়ে দেবেন তিনি।