এই মুহূর্তে কলকাতা

বর্ষার আগেই রাজ্যে বাড়ছে মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ।


কলকাতা, ৬ মে:- বর্ষার মরশুম শুরু হওয়ার আগেই রাজ্যে বাড়ছে মশাবাহিত দুই রোগ ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ। গত বছর গোটা দেশের নিরিখে এরাজ্যই ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তর সংখ্যার নিরিখে শীর্ষে ছিল। যদিও এবার আগেভাগেই প্রশাসনকে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় পথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সর্বত্র পুরসভা, পঞ্চায়েতের উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতার পাশাপশি জল জমা নিয়ে সমীক্ষা চলছে। মশা মারতে নর্দমা, খালে গাপ্পি মাছ ছাড়া হচ্ছে। শহরে গত বছর যে যে জায়গাগুলিতে মশাাবহিত রোগের দাপট ছিল, সেই এলাকাগুলিতে এখন থেকেই কাউন্সিলারদের নিয়মিত প্রচারে নামতে বলা হয়েছে পুরসভার তরফে। আবার ফাঁকা জায়গার পাশাপাশি যেখানে যেখানে জল জমতে পারে, সে দিকে বাড়তি নজর দিতে কঠিন বর্জ্য অপসারণ বিভাগকে বলেছেন পুর-কমিশনার বিনোদ কুমার। পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাস বলেন, ‘ম্যালেরিয়ার লার্ভা নীচের তলের থেকেও উপরে, ছাদে বেশি জন্মায়। তাই সবার কাছে অনুরোধ, ছাদে নজর দিন। রাতে অবশ্যই মশারি টাঙিয়ে ঘুমোন এবং অবশ্যই বাড়ির চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখুন।’

ম্যালেরিয়ায় শীর্ষে বাংলা এদিকে ২০২২ সালে রাজ্যে বাংলায় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় কত মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তার পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। তাতে দেখা যাচ্ছে, মশাবাহিত এই দুই রোগে বাংলায় আক্রান্তের সংখ্যা দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল।/এক লক্ষের বেশি মানুষ ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর রাজ্যে ৬৭ হাজার ২৭১ জন ডেঙ্গিতে এবং ৪০ হাজার ৫৬৩ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। ওই রাজ্যে ২০২২ সালে ১৯ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গির কবলে পড়েছেন। অন্যদিকে, ম্যালেরিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিহার। গত বছর ওই রাজ্যে ২৮ হাজারের বেশি মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। তারপরই দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠায় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২২ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।