এই মুহূর্তে কলকাতা

করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ষষ্ঠ দফার ভোট নির্বিঘ্ন করতে তৎপর কমিশন।

কলকাতা , ২১ এপ্রিল:- রাজ্যে ক্রমবর্ধমান করোনা আতঙ্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজ্যে ষষ্ঠ দফা নির্বাচন হতে চলেছে। চার জেলার মোট ৪৩ আসনে ৩০৬ জন প্রার্থীর রাজনৈতিক ভাগ্যে এদিন নির্ধারিত হবে। এই দফায় পূর্ব বর্ধমানের ৮টি বিধানসভা, উত্তর ২৪ পরগনার ১৭টি বিধানসভা, উত্তর দিনাজপুরের ৯টি বিধানসভা, এবং নদিয়ার ৯ টি বিধানসভায় নির্বাচন হবে। জেলাওয়ারি প্রার্থী রয়েছেন উত্তর দিনাজপুরের ৭২ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ১২৬ জন, পূর্ব বর্ধমান ৪৩ জন, নদীয়া জেলায় ৬৫ জন। এই চারটি জেলায় মোট ৩০৬ জন প্রার্থী ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ষষ্ঠ দফায় পোলিং বুথের সংখ্যা ১০,৮৯৭টি। ভোট গ্রহণ শুরু হবে সকাল ৭টা থেকে। চলবে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত। করোনা বিধি মেনেই নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রতিটি বুথে চলবে বলে নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে। ষষ্ঠ দফায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১কোটি ৩ লক্ষ ৮৭ হাজার ৭৯১ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৩২১৩৮৫, মহিলা ভোটার ৫০৬৬১৫০। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২৫৬ জন। সার্ভিস ভোটারের সংখ্যা ২২১৫৬, এনআরআই ভোটার ১৫ জন।ষষ্ঠ দফায় মোট বুথের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৮০। যার মধ্যে প্রাথমিক বুথ ১০ হাজার ৮৯৭ , অক্সিলারি বুথ ৩৫৮৩।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর অনুযায়ী ষষ্ঠ দফায় দফায় মোট ৭৭৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আসানসোল দুর্গাপুরে ১৪ কোম্পানি, বনগাঁ পুলিশ জেলায় ৬৯ কোম্পানি, বারাসাত পুলিশ জেলায় ৫৯ কোম্পানি, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে ১০৭ কোম্পানি, বসিরহাটে ৪০ কোম্পানি, বিধাননগরে ৩ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৩ কোম্পানি, উত্তর দিনাজপুর ইসলামপুরে ৮২ কোম্পানি, কৃষ্ণনগরে ১৬৩ কোম্পানি, পূর্ব বর্ধমানে ১৪৩ কোম্পানি, রায়গঞ্জে ৯৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। সূত্র মারফত খবর, এবারের ষষ্ঠ দফার নির্বাচনে আঁটোসাঁটো ভাবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিতে চলেছে কমিশন। যাতে যে ধরনের ঘটনা আগের দফা গুলিতেও ঘটেছে তার পুনরাবৃত্তি না হয়।ষষ্ঠ দফার নির্বাচন নির্বিগ্নে পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সবরকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। পোলিং স্টেশনে মাইক্রো অবজারভার, বুথে সিসিটিভি’র নজরদারির ব্যবস্থা, ভোট কেন্দ্রে ভিডিও ক্যামেরার ব্যবস্থা, ভিডিওগ্রাফির জন্য ১৫৬৬ টা ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভোট গ্রহণ ব্যবস্থা পরিচালনা করা হবে।

প্রতিটা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ২০০ মিটার দূরত্ব পর্যন্ত থাকবে ১৪৪ ধারা জারি থাকছে বৃহস্পতিবারও। ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের যাতায়াত ছাড়া সাধারণের যাতায়াতের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফেরি সার্ভিস পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে ভোট দাতাদের সামাজিক দূরত্ববিধি ও মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩০৭২ টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের প্রত্যেকটি বুথের জন্য ৪ জন করে সিআরপিএফ জওয়ান কর্তব্যরত থাকবেন। তেমনই দুটো বুথের ক্ষেত্রে ৮ জন এবং ৫- ৮টি বুথের জন্য ১২ জন করে জওয়ান মোতায়েন থাকছে । প্রত্যেকটি পোলিং স্টেশনেই ১ জন করে রাজ্য পুলিশ কর্মী কর্তব্যরত থাকছেন। সমগ্র ভোট প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ১৬৩ কোম্পানি সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন থাকছে ষষ্ঠ দফায়। ৫০০০ জন রাজ্য পুলিশ ও ১৪ হাজার ভোট কর্মী ষষ্ঠ দফার নর্বাচন পরিচালনায় থাকছেন। অতি স্পর্শকাতর’ বুথে বিশেষ বাহিনীর-র ব্যবস্থা থাকবে বলেও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও ধারাবাহিক নাকা চেকিং, ভোটারদের উৎসাহ আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির উদ্দেশ্যও বিশেষ টিম সব সময় কাজ করছে।