এই মুহূর্তে কলকাতা

সময়ের আগেই শেষ হবে টালা সেতুর কাজ , আশা পূর্ত দফতরের।

কলকাতা , ১২ ডিসেম্বর:- কাজ চলছে জোর কদমে, সময়ের আগেই শেষ হবে টালা সেতুর কাজ। এমনই আশা করছে পূর্ত দফতর। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে নতুন সেতু সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়ার কথা আছে। কিন্তু লকডাউনের সময়ে কাজ এত দ্রুত এগিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যাবে বলে মনে করছেন ইঞ্জিনিয়াররা। মে মাসের মধ্যেই সেতু ভাঙার কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। শ্যামবাজার এবং ডানলপ, সেতুর ‌দু’‌দিকেই অ্যাপ্রোচ রোডের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। যে সময়ে ভাঙার কাজ চলছিল, সেই সময়ে রেলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নকশা, টেন্ডার ডাকা সহ আনুসঙ্গিক কাজ সেরে রেখেছিল পূর্ত দফতর। লার্সেন অ্যান্ড টুবরো (‌‌এল অ্যান্ড টি) সংস্থাকে সেতু তৈরির বরাত দেওয়া হয়েছিল। সেতু তৈরিতে খরচ হবে ৩৪৮ কোটি টাকা। কলকাতা পুরসভা থেকে পূর্ত দফতরকে অনুরোধ করা হয়েছিল, টালার ট্যাঙ্ক থেকে যাতে আর একটি জলের লাইন টানা যায়, সেতুতে তার ব্যবস্থা রাখা হোক। পুরসভার বক্তব্য, আগামী দিনে কলকাতায় লোকসংখ্যা বাড়বে। জলেরও চাহিদা বাড়বে।

তখন টালার ট্যাঙ্ক থেকে আর একটি লাইন টানার প্রয়োজন হতে পারে। পুরসভার অনুরোধ মেনে নতুন সেতুতে জলের লাইন টানার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রেল লাইনের ওপরে সেতু থাকলে যে ধরনের নকশা করা হয়, ঠিক সেভাবে সমস্ত নিয়ম মেনে নতুন টালা সেতুর নকশা তৈরি হয়েছে। সেতুটি দেখতে হবে অনেকটা আর্চের মতো। স্টিলের তৈরি এই সেতু পুরনো সেতুর চেয়ে অনেক চওড়া হবে। পুরনো সেতুটি দুই লেনের ছিল। নতুন সেতু হবে চার লেনের। মূল সেতুটির দু’টি ভাগ থাকবে। একটি ভাগ দিয়ে গাড়ি যাবে। অন্যটি দিয়ে আসবে। দু’টি ভাগের মধ্যে ফাঁক থাকবে। দু’দিকের অ্যাপ্রোচ রোডে গিয়ে সেতুর দুটি অংশ জুড়ে যাবে। ডানলপের দিকে অ্যাপ্রোচ রোডের দৈর্ঘ্য হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি। এতে যান চলাচল আরও মসৃণ হবে। ভারী যান সহজে সেতুর ওপরে উঠতে পারবে। সেতু তৈরি করতে গিয়ে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য কর্মী। কিন্তু কাজ থেমে থাকেনি একদিনও। ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি নির্মাণ সংস্থার আধিকারিক, কর্মীরাও অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।