হুগলি, ৯ সেপ্টেম্বর:- কোন্নগরের বাসিন্দা বিক্রম ভট্টাচার্য ২৮ বছরের তরতাজা যুবকের মৃত্যু হয়েছে বিনা চিকিৎসায়। ডাক্তার বাবুদের কর্মবিরতির জেরে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে প্রথম দিন থেকেই ডাক্তারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারের দাবি জানিয়েছিল বিক্রমের মা কবিতা দেবী। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর চার দিন কেটে গেছে এখনো বুকভরা ক্ষোভ দুঃখ নিয়ে বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে কবিতা দেবী। বিক্রমের মৃত্যুর পর সেই ঘটনা নিয়ে টুইট করে ডাক্তারদের কাজে ফেরার আবেদন জানিয়ে টুইট করেছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে টুইট করেছিলেন সেই অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এমনকি বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনাকেও মিথ্যা বলে জানিয়েছিলেন ডাক্তারবাবুরা। কিন্তু এই কথা জানতে পেরে ডাক্তার বাবুরা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছেন বলে জানালেন বিক্রমের মা। এদিন বিক্রমের মা বিনা চিকিৎসায় নিজের ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে বলেন, ডাক্তার বাবুরা যদি বলেন যে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়নি তাহলে তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলছেন।
সে তার আহত ছেলেকে নিয়ে আর জি কর হাসপাতালে যারা ছিলেন তাদের বার বার অনুরোধ করেছিলেন যে ডাক্তার কোথায় কিন্তু কেউ কিছুই জানায়নি। আমি আমার ছেলেকে নিয়ে প্রায় তিন ঘন্টা নিয়ে ছোটাছুটি করেছি কিন্তু কোথাও ডাক্তার নেই, না ট্রোমা কেয়ারে ছিল আর না আউটডোর এ ছিল। এখন ডাক্তার বাবুরা মিথ্যা কথা বলছেন তারা ট্রিন্টমেন্ট করেননি আর আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি আর এখন আমাকেও মিথ্যাবাদী বানাচ্ছেন। গরীব মানুষরা সরকারি হাসপাতালে যায় আমিও আশা নিয়ে গেছি যে আরজিকর ভালো সেখানে আমার ছেলেটা ট্রিটমেন্ট পাবে সুস্থ হবে, কিন্তু আমার সেই আশা পূর্ণ হয়নি আমার ছেলেটা ওখানে ট্রিটমেন্ট পায়নি আর বাঁচতেও পারলো না।আমি শুধু হাসপাতালে একবার এদিক একবার ওদিক ছুটে বেড়ালাম। একটা মায়া লাগলো না ডাক্তার বাবুদের? এদের মধ্যে কোনো মায়া দয়া নেই এরা কেমন ডাক্তার? অন্য রুগীর পরিজনদের মায়া লাগছে তারা বলছে ছেলেটা সাদা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ডাক্তার বাবুদের একটু মায়া লাগলো না।
২৮ বছরের একটা ছেলে অভাবে তড়পাচ্ছে কিন্তু দেখেও করো মায়া লাগলো না। বিনা চিকিৎসায় আমার ছেলেটা মারা গেলো আর ডাক্তার বাবুরা একজন বলছে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কথাটা ঠিক নয়। আর আমি একজন মা আমাকেও তারা মিথ্যাবাদী বানাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বিক্রমের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় বিচার চেয়ে দাবি উঠেছে জাস্টিস ফর কোন্নগর। আর রবিবার রাতে নাগরিক সমাজের ডাকে কয়েক হাজার মানুষ প্রথমে মোমবাতি জ্বালিয়ে ও ফোনের ফ্ল্যাশ জেলে মানব বন্ধন করে বিক্রমের বিচার চেয়ে পথে নাবে। এরপর আবার রাতে কয়েক হাজার মানুষ বিক্রমের মৃত্যুর বিচার চেয়ে মশাল মিছিল করে রাস্তায় নাবে আর সেই মিছিলে ছেলের মৃত্যুর বিচার চেয়ে রাস্তায় নাবে সন্তানহারা মা কবিতা দেবীও। কিন্তু তারা গরীব তাদের বেসরকারি হাসপাতালে যাওয়ার ক্ষমতা নেই তাদের কাছে সরকারি হাসপাতাল শেষ ভরসা। আর এই সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরেই এখন সন্তানকে হারিয়ে শুধুই বিচারের আশায় দিন কাটাচ্ছে সদ্য সন্তানহারা এক মা।







