এই মুহূর্তে কলকাতা

মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের আবেদন বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর।

কলকাতা, ২৫ আগস্ট:- বিচার বিভাগকে স্বাক্ষী রেখে মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিডিয়া ট্রায়াল আদালতের মামলাকে বিপথে চালিত করছে বলেও বিচারপতিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার কলকাতায় নব মহাকরণ ভবনের একাংশ আনুষ্ঠানিক ভাবে কলকাতা হাইকোর্টের হাতে হস্তান্তরের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তিনি এব্যাপারে বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব সহ বিচারপতিদের উদ্দ্যেশ্যে তিনি আবেদন জানিয়ে বলেন, মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ হোক। এটা মামলাকে বিপথে চালিত করে। তিনি বলেন, অনেক কিছু বলা হচ্ছে যার সঙ্গে চূড়ান্ত রায়ের কোনও সম্পর্ক থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আদালত চূড়ান্ত কি রায় দেবে তা তথ্য প্রমাণের উপর নির্ভর করে। কিন্তু সে সব পেশ হওয়ার আগেই আলটপকা কিছু বলে দেওয়া হচ্ছে। বিচার ব্যবস্থা তথ্য-প্রমাণের উপর ভিত্তি করেই এগিয়ে চলে। কিন্তু সে সব পেশ হওয়ার আগেই কিছু বলে দেওয়া হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে বাস্তবের কোনও সঙ্গতি থাকছে না। কিন্তু বদনাম হচ্ছে। একই সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মিডিয়ার বন্ধুদের বলব আপনারা খবর দেখান। আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে তাও বলতে পারেন। কিন্তু মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করুন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম এবং গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর গুরুত্ব সংবিধানে উল্লেখিত রয়েছে। কোনও একটি বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে বাকিগুলির উপর থেকে বিশ্বাস চলে যায়। এর উপর গণতান্ত্রিক দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ছিল। কেন্দ্র বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে ফের ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট চালু করে। এই মুহূর্তে রাজ্যে ৫৫ টি মহিলা কোর্ট, সাতটি পস্কো আদালত, ১৯টি মানবাধিকার আদালত রয়েছে।বিচারব্যবস্থা গণতান্ত্রিক দেশের স্তম্ভ।

সাধার মানুষ তাই বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন। সুবিচারের আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করে থাকেন। সব জায়গায় বিশ্বাসভঙ্গ হলে, বিচারব্যবস্থাই সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়। বিচার কখনও একপক্ষ হয় না, নিরপেক্ষ হয়।” পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী তিন চার বছর ধরে বকেয়া থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিরও আবেদন জানান। আদালতে আরও বেশি সংখ্যায় মহিলা বিচারপতি নিয়োগের জন্যও তিনি প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব বলেন বিচার বিভাগের আয়তন বৃদ্ধির ফলে কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তিনি দ্রুত নব মহাকরণের একাংশ সরকার তাঁদের আদালতের কাজ কর্মের জন্য দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।জানা গেছে নগর দায়রা আদালতের একাংশ নব মহাকরণে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই হস্তান্তরের জেরে আবাসন, ক্রীড়া, সমবায়, পর্যটন দফতর ও লেবার ট্রাইব্যুনাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।