এই মুহূর্তে জেলা

স্কুলের করণিকদের জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো হাওড়ায়।

হাওড়া, ১২ ডিসেম্বর:- কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনেই রবিবার ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কুল এন্ড মাদ্রাসা ক্লার্কস্ অ্যাসোসিয়েশনের হাওড়া জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো সাঁত্রাগাছির জগাছা হাই স্কুলে। হাওড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরকার পোষিত ও সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুল এবং মাদ্রাসার প্রায় ৫০০ জন করণিক উপস্থিত ছিলেন এদিনের অনুষ্ঠানে। উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর অফ্ স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্ট অলোক সরকার, হাওড়া জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) অজয় কুমার পাল, অতিরিক্ত জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) বনমালী জানা, বিশিষ্ট সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক, সংগঠনের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর সিদ্ধান্ত, রাজ্য সভাপতি মহঃ রেজওয়ান ফিরদৌস ও অন্যান্য রাজ্য প্রতিনিধিবৃন্দ।

সংগঠনের পক্ষে রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মাননীয় দীপঙ্কর সিদ্ধান্ত বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলগুলি বর্তমানে শুধুমাত্র শিক্ষাগ্রহণ কেন্দ্র নয়, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প; যেমন- শিক্ষাশ্রী, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী, বিভিন্ন স্কলারশিপ, ঐক্যশ্রী ইত্যাদি জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রও বটে। স্কুলে এই প্রায় সকল প্রকল্পগুলির দায়িত্ব সামাল দেন একজন করণিক। পাশাপাশি স্কুল শিক্ষার সঙ্গে জড়িত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক রেজিস্ট্রেশন, ফর্ম ফিলাপ, ছাত্র ভর্তি, আয়ব্যয় এর হিসাব সহ নানারকম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান একজন করণিক। এছাড়াও যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে ইন্টারনেট ও কম্পিউটারভিত্তিক কাজ থেকে শুরু করে পোর্টালে বেতন, ইপেনশন, ইপিএফ ইত্যাদি যাবতীয় কাজ করেন সেই করণিকই। স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে এই সকল বিপুল কাজের ভার বহন করে চলা করণিক এর নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক।

কিন্তু প্রশ্ন হল, এই শিক্ষার মান এইসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের ব্যাপারে কি উপযুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত ? যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির যুগে সাধারণ মাধ্যমিক পাশ একজন মানুষ কীভাবে এই গুরুদায়িত্ব সামাল দিতে পারেন। সমাজ এগোচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার বৃদ্ধির যুগে, স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামোয় অন্যতম প্রধান দায়িত্ব পালনকারীর নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক থাকা কি সমীচীন ? স্বাধীনতার পর থেকে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারি অন্যান্য অফিসের করণিকদের কিংবা রাজ্য, কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলের করণিকদের, নিয়োগের নূন্যতম যোগ্যতা বৃদ্ধি হয়ে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক পাশ করা হলেও পশ্চিমবঙ্গের সরকার পোষিত ও অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের করণিকদের নিয়োগের নূন্যতম যোগ্যতা মাধ্যমিক। ২০১২ ও ২০১৮ সালে এসএসসি ও এমএসসির মাধ্যমে করণিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রিলিমিনারী, মেইন পরীক্ষা, ইন্টারভিউ-এর

পাশাপাশি কম্পিউটার প্রফিসিয়েন্সি টেস্ট এবং কম্পিউটার টাইপিং টেস্টের মাধ্যমে প্রার্থী যাচাই করে নিয়োগ সম্পন্ন করেও নিযুক্ত করণিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধুমাত্র মাধ্যমিক করে রাখা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমিক অ্যাডমিট, রেজিস্ট্রেশন এর মতো জরুরী নথির কাজকে গুরুত্ব দিয়ে ও সরকারি প্রকল্পগুলির নির্ভুল ও সার্থক রূপায়ণের কথা ভেবে, স্কুলগুলির বর্তমান কাজের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে করণিকদের নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক ও কম্পিউটার প্রশিক্ষিত করা আশু প্রয়োজন। এছাড়াও প্রমোশনের দাবি, সুনির্দিষ্ট কর্মতালিকার দাবি সহ মোট ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের সকল জেলায় এই কর্মসূচি চলছে। বর্তমান সরকারের কাছে আবেদন, করণিকদের এই বিষয়গুলি মানবিকতার সঙ্গে দেখুক। এদিনের সম্মেলনে জেলার নতুন জেলা কমিটি গঠিত হয়। জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন মানিক চন্দ্র বেরা ও জেলা সম্পাদিকা হন সর্বাণী ঘোষ।