এই মুহূর্তে জেলা

টোটো চালিয়ে বাড়ি বাড়ি সমস্যা সমাধানে বিধায়ক!

সুদীপ দাস, ১৮ জুন:- একদা রিক্সাচলাকই বর্তমান বিধায়ক। তাও আবার শাসক দল তৃণমূলের। সেই বিধায়কই এখন টোটো চালিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। শুধু ঘুরে বেড়ানোই নয়, সাধারনের সমস্যা মেটাতে বদ্ধপরিকর হুগলীর বলাগরের বিধায়ক মনোরঞ্জন ব্যাপারী। মনোরঞ্জনবাবু আদিবাসী সাহিত্য একাডেমির চেয়ারম্যান। তাই তিনিও একজন সাহিত্যিক। নিজে সাহিত্যিক হওয়ার এই পথটা কিন্তু কোনদিনই মসৃন ছিলো না মনোরঞ্জনবাবুর। একটা সময়ে প্লাটফর্মে রাত কাটানো মনোরঞ্জনের নিত্যদিনের রুটিন ছিলো রিক্সা চালিয়ে মদ খাওয়া, মারপিট করা আর সবশেষে জেলে যাওয়া। জেলের মধ্যেই অক্ষর জ্ঞান অর্জন করেন তিনি। পড়াশোনার প্রতি প্রবল ইচ্ছাশক্তিই কোনদিন স্কুলে না যাওয়া মনোরঞ্জনকে সাহিত্যিক করে তুলেছে। সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরে পরে তিনি প্রথমে সাহিত্য অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান এবং তারপর বলাগরের টিকিট পেয়ে প্রথমবারেই বাজিমাত।

২০১৯-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৩৫হাজার ভোটে পিছিয়ে থাকা আসনে দাঁড়িয়েই মনোরঞ্জনবাবু জিতেছেন প্রায় ৮ হাজার ভোটে। ভোটে জেতার পরেও মনোরঞ্জনের মন কিন্তু সেভাবে রঞ্জিত হয়নি। কারন তিনি বুঝতেই পারছেন না দিদির এত উন্নয়নের পরও বিজেপি কি করে বলাগর থেকে ৯০ হাজারের উপরে ভোট পেলো। মনোরঞ্জনবাবু তাই বিধায়ক ভাতার প্রথম মাসের টাকায় নতুন একটি টোটো কিনে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বলাগরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সাধারনের সাথে কথা বলছেন। কার কি সমস্যা তা শুনে সাধ্যমত মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। ভরা বৃষ্টিতেও মনোরঞ্জনবাবুর এই কাজে কোন খামতি নেই। টোটোতে রাজ্য সরকারের দেওয়া একজন নিরাপত্তা কর্মীকে বসিয়ে নিয়ে তিনি ছুটছেন বলাগরের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্তে। সাধারনের সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের উপরে কোন ক্ষোভ আছে কিনা দুদে রাজনীতিবিদের মত তাও জেনে নিচ্ছেন নতুন এই বিধায়ক।

বাঁকুড়ার দরিদ্রতম বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি প্রসঙ্গে মনোরঞ্জনের বক্তব্য ওনার সাথে আমার অর্থনৈতিক অবস্থা মিলে। ওঁনার হয়তো কাজ করারও ইচ্ছে আছে। কিন্তু উনি পারবেন না। কারন বিষপাত্রে রাখলে অমৃতও বিষ হয়ে যায়। এমনই মন্তব্য করেন ঘোর বিজেপি বিরোধী মনোরঞ্জনবাবু। এলাকার তৃণমূল নেতা শ্যামাপ্রসাদ রায় ব্যানার্জী মনোরঞ্জন বাবুর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন উনি একা যাচ্ছেন এটাই ভালো। কারন আমার প্রতিও যদি কোন মানুষের ক্ষোভ থাকে অসমি না থাকলেই সেটা মনোরঞ্জনবাবুকে জানাতে দ্বিধা করবে না সাধারন মানুষ। স্থানীয় বিধায়ককে এভাবে পাবেন তা বলাগরের বাসিন্দারা কোনদিনই ভাবেনি। তাঁরা বলেন ভোট মিটে গেলে এমনিতেই নেতাদের দেখা পাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের এই বিধায়ক জেতার পরও বাড়ি বাড়ি আসছেন তাও আবার একটানা বৃষ্টিকে মাথায় করে শুধুমাত্র একটি টোটোতে চেপে, ভাবা যায়!