এই মুহূর্তে কলকাতা

বিগত ভোট পর্ব থেকে শিক্ষা , থানায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবেনা , কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

কলকাতা , ৩ মার্চ:- বিগত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও তাদের কার্যত বসিয়ে রেখে ভোট লুঠ করা হয়েছে কবলে অভিযোগ বিরোধীদের।এবার এধরণের অভিযোগ রুখতে আগে থেকেই তত্পর হল নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের ঘোরাফেরা যাতে স্থানীয় পুলিশের ওপর না থাকে, আগের বারের মতো তাদের যাতে থানায় বসিয়ে রাখার অভিযোগ না ওঠে তা দেখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও তাদের সঠিক ভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে দেখাশোনা করা হয় তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে প্রত্যেক জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করার সময় সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের উপস্থিত থাকতে হবে। জেলাশাসকরা পদাধিকাোর বলে জেলার নির্বাচনী আধিকারিক হিসাবে কাজ করেন। ভোট ঘোষণার পর তাঁরা কমিশনের নির্দেশেই প্রশাসনিক সমস্ত কাজকর্ম পরিচালনা করেন।কাজেই তাদের হাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পুরো বিষয়টি রাখতে চাইছে কমিশন। যাতে এই নিয়ে কোন অভিযোগ উঠলে সরাসরি তারা জেলা শাসকের কাছ থেকেই জবাবদিহি তলব করতে পারেন।

এবার বিধানসভা ভোটে রাজ্যে একহাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।এর মধ্যে ২৭ শে মার্চ প্রথম দফার ভোটের আগেই রাজ্যে সাড়ে ৬শ কোম্পানি আধাসেনা মোতায়েন করা হবে। কমিশন সূত্রে খবর ২৫ শে মার্চেরমধ্যেই রাজ্যে দফায় দফায় সাড়ে ছশ কোম্পানি আধা সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে আরোও ১৭০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে। ভোট ঘোষণার আগে থেকেই বাহিনী আসা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১১৮ কোম্পানি ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসেছে। রাজ্যের বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনকে আবেদন করেছিল যে বিধানসভা নির্বাচন কোনভাবেই যাতে রাজ্য পুলিশ দিয়ে না করানো হয়। কারণ রাজ্য পুলিশ এর ওপর বিরোধী দলগুলির কোনরকম ভরসা নেই, তারা বারবার রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে এসেছিল ৭৪৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ বছরে রাজ্যের তরফ থেকে চাওয়া হয়েছিল ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করার জন্য যা ব্যবস্থা নেওয়ার কমিশন নেবে।

ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রাজ্যে আসবে এবং সেই সংখ্যাটা হাজার কোম্পানিও ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজ্যে গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ‘অশান্তি’র আশঙ্কা থাকত পাহাড় ও জঙ্গলমহলে। তাই পাহাড় ও জঙ্গলমহলে আগেভাগেই বাড়তি বাহিনী পাঠিয়ে দিত নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এ বার কমিশন বাহিনী মোতায়েনের সেই বিন্যাসটাকেই বদলে দিয়েঠে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গলমহলের দুই জেলা পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের জন্য বরাদ্দ বাহিনী কমানো হয়েছে বলে খবর।সর্বাধিক হারে বাড়ানো হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জন্য বরাদ্দ বাহিনীর সংখ্যা। প্রথমে এই জেলার জন্য ৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বরাদ্দ করা হয়েছিল। যা আচমকাই বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ১৮ কোম্পানি করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়ার জন্যও ২৫ কোম্পানি অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। যা করতে গিয়ে পাহাড় থেকে ৯ কোম্পানি এবং জঙ্গলমহলের দুই জেলা ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া থেকে ৪ কোম্পানি করে মোট ৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী কমানো হয়েছে।