এই মুহূর্তে জেলা

বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে সমুদ্র ।


দিঘা, ২১ আগস্ট:- বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে সমুদ্র । আজও তীব্র জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে দিঘা এবং সংলগ্ন উপকূল এলাকায়। জলে ভাসছে সৈকত সরণির রাস্তা । জলোচ্ছ্বাস দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছেন পর্যটকরা । সতর্কতামূলক প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন । রয়েছে কড়া নজরদারি । রাতভর ব্যাপক বৃষ্টিপাতের পর শুক্রবার সকালে জোয়ারের সময় তীব্র জলোচ্ছ্বাস শুরু হয় দিঘা , শঙ্করপুর উপকূল এলাকায় । দিঘায় ১৩-১৫ ফুট উচ্চতার বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে গার্ডওয়ালের ওপর । শিউরে ওঠার মতো সে দৃশ্য গোটা দশকেও বিরল বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের ।

সকাল থেকে লাগাতার জলোচ্ছ্বাস সৈকত সরণির রাস্তা বেয়ে জল ঢুকে ভাসিয়ে দেয় সাপুয়া বাজার । দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে জল। জলমগ্ন হয়ে যায় সৈকত সংলগ্ন রাস্তাঘাট । লকডাউনের জন্য পর্যটকশূন্য দিঘায় এবার আর পর্যটকদের নিয়ে আশঙ্কা ছিল না। বাকি জলোচ্ছ্বাস দেখতে আসা বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয় প্রশাসন । কিন্তু শঙ্করপুর উপকূলে সমুদ্র বাঁধ বিপন্ন হয়ে পড়ায় আতঙ্কের মেঘ জমছে মানুষের মনে ।

জোয়ারে দুর্বল সমুদ্র বাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে গিয়েছে নোনা জলে । এতে ব্যাপকভাবে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে । পাশাপাশি মাছের ভেড়ি , পুকুরে নোনা জল ঢুকে মাছ চাষেরও বিরাট ক্ষতি হয়েছে । প্রবল সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ৷ গত পূর্ণিমা কোটালের ক্ষয়ক্ষতির রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি গ্রামবাসীরা । অমাবস্যা কোটালের আগেই সমুদ্র বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করেছিল সেচ দপ্তর । বোল্ডার , পাথর ফেলে উঁচু করা হয়েছিল বিপর্যস্ত সমুদ্র বাঁধের একাংশ । কিন্তু প্রকৃতি সহায় না হওয়ায় শঙ্করপুর , জামড়া-শ্যামপুর , চাঁদপুর এলাকাগুলোতে উঁচু বাঁধ টপকেই জল ঢুকেছে লোকালয়ে।