এই মুহূর্তে কলকাতা

কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধির ওপর এবার কেন্দ্রীয় ভাবে নজরদারী চালাবে কমিশন

কলকাতা , ১৫ মার্চ:- রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যাতে যথাযথ ভাবে ব্যবহার করার ব্যপারে আরও কঠোর হচ্ছে নির্বাচন কমিশন।বাহিনীকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করার বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ভাবে বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এবার বিধান সভা ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুটমার্চ থেকে শুরু করে যাবতীয় গতিবিধি ভিডিওগ্রাফি করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যে বিগত বেশ কিছু ভোটে পর্যাপ্ত সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হলেও তাদের সঠিক ভাবে ব্যবহার না করার অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় প্রশাসনের ওপর কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধি নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব থাকায় তাদের থানায় বসিয়ে রেখে ভোটে শাসক দলের ওপর পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। এবার ভোটের প্রস্তুতি পর্ব থেকেই এধরণের অভিযোগ রুখতে সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর গতিবিধি কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি এবার তাদের গতিবিধির ওপর কেন্দ্রীয় ভাবে নজরদারি করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর কমিশন সূত্রে।কমিশনের এক কর্তা বলেন, ‘এবার বিধানসভা ভোটের প্রতি পর্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী যেখানে যেখানে যাবে তা ভিডিওগ্রাফি করে রাখা হবে।তা সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে পাঠানো হবে।তাদের মারফত সেই রিপোর্ট জমা পরবে নির্বাচন কমিশনের কাছে।’ এর আগেই নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে প্রত্যেক জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করার সময় সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের উপস্থিত থাকতে হবে। জেলাশাসকরা পদাধিকার বলে জেলার নির্বাচনী আধিকারিক হিসাবে কাজ করেন। ভোট ঘোষণার পর তাঁরা কমিশনের নির্দেশেই প্রশাসনিক সমস্ত কাজকর্ম পরিচালনা করেন।কাজেই তাদের হাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পুরো বিষয়টি রাখতে চাইছে কমিশন।

যাতে এই নিয়ে কোন অভিযোগ উঠলে সরাসরি তারা জেলা শাসকের কাছ থেকেই জবাবদিহি তলব করতে পারেন।রাজ্যের বিরোধী দলগুলি নির্বাচন কমিশনকে আবেদন করেছিল যে বিধানসভা নির্বাচন কোনভাবেই যাতে রাজ্য পুলিশ দিয়ে না করানো হয়। কারণ রাজ্য পুলিশ এর ওপর বিরোধী দলগুলির কোনরকম ভরসা নেই , তারা বারবার রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনেন। গত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে এসেছিল ৭৪৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ বছরে রাজ্যের তরফ থেকে চাওয়া হয়েছিল ৮০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করার জন্য যা ব্যবস্থা নেওয়ার কমিশন নেবে। ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রাজ্যে আসবে এবং সেই সংখ্যাটা হাজার কোম্পানিও ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজ্যে গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ‘অশান্তি’র আশঙ্কা থাকত পাহাড় ও জঙ্গলমহলে। তাই পাহাড় ও জঙ্গলমহলে আগেভাগেই বাড়তি বাহিনী পাঠিয়ে দিত নির্বাচন কমিশন।

কিন্তু এ বার কমিশন বাহিনী মোতায়েনের সেই বিন্যাসটাকেই বদলে দিয়েঠে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা এবং জঙ্গলমহলের দুই জেলা পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের জন্য বরাদ্দ বাহিনী কমানো হয়েছে বলে খবর।সর্বাধিক হারে বাড়ানো হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জন্য বরাদ্দ বাহিনীর সংখ্যা। প্রথমে এই জেলার জন্য ৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী বরাদ্দ করা হয়েছিল। যা আচমকাই বাড়িয়ে এক ধাক্কায় ১৮ কোম্পানি করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান ও বাঁকুড়ার জন্যও ২৫ কোম্পানি অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে। যা করতে গিয়ে পাহাড় থেকে ৯ কোম্পানি এবং জঙ্গলমহলের দুই জেলা ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া থেকে ৪ কোম্পানি করে মোট ৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী কমানো হয়েছে।