এই মুহূর্তে কলকাতা

বেআইনি নির্মাণ, তোলাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধের হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর।

কলকাতা, ২৪ জুন:- ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুরসভা গুলিকে ৫১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার তা সত্বেও বিভিন্ন পুর এলাকার বাসিন্দারা এখনো রাস্তাঘাট,পানীয় জল নিকাশি, আলোর মতো ন্যূনতম পরিষেবা গুলি ঠিক মতো পাচ্ছে না। নবান্নে পুরসভা ও উন্নয়ন পর্ষদ গুলির পর্যালোচনা বৈঠকে এ নিয়ে সরব হলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পরিষেবার সঙ্গে কোন রকম আপোষ করা চলবে না। মানুষকে পরিষেবা দেওয়া নিয়ে কোনো রকম ফাঁক সরকার আর মানবে না। নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি, সরকারি জমির জবরদখল বেআইনি নির্মাণ তোলাবাজি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

না হলে এবার দল, বিভাগ,পদমর্যাদা নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিন নবান্নে রাজ্যের সমস্ত পুরসভার মেয়র, চেয়ারম্যান এবং রাজ্যের পুরো ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে নিয়ে একটি বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একাধিক উল্লেখযোগ্য বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন হাওড়া পুরসভাকে কড়া ভর্ৎসনা করেন। তিনি বলেন, ‘হাওড়ায় ভ্যাট পরিষ্কার হয় না। রাস্তায় ময়লা আসছে। বালি পুরসভার এসডিও অমৃতা রায় বর্মন কী করছেন? হাওড়াতে কনজারভেন্সির এখনও পর্যন্ত কোনও সিস্টেম নেই। কিন্তু, আমরা টাকা দিয়েছি। এই ধরনের ঘটনায় রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’তিনি বলেন, রথিন চক্রবর্তী চেয়ারম্যান থাকাকালীন পুরসভার ১২টা বাজিয়ে গিয়েছে।

কোথাও জবরদখল হলে কেন সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ কেন করা হচ্ছে না? খালি জায়গা দেখলেই লোক বসিয়ে দিচ্ছে। কিছু মানুষের টাকা খাওয়ার জন্য রাজ্যের ভাবমূর্তি নষ্ঠ হচ্ছে। পুরসভাগুলির পারফর্ম্যান্স খুব খারাপ।’ পাশাপাশি সল্টলেক পুরসভার প্রসঙ্গ টেনে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন সল্টলেক পুরসভার কাউন্সিলররা কাজ করে না? কেন রাস্তা ঝাঁট দেয় না? এবার কি আমি ঝাঁট দেব? রাস্তা দেখে না, জল দেখে না।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জিজ্ঞাসা না করেই যখন তখন কর বাড়িয়ে দিচ্ছে পুরসভাগুলি। যখন তখন ক্যাজুয়াল লোক নিচ্ছে। ফাইন্যানসিয়াল অর্ডার ছাড়া এগুলো না করার কথা বারবার বলা হচ্ছে। কিন্তু, অনলাইন ছাড়া তা কী ভাবে দেওয়া হচ্ছে?’

এদিন বিভিন্ন পরিষেবার নিরিখে কোন পুরসভাগুলির প্রদর্শন কেমন, তা স্পষ্ট ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পানীয় জল সরবরাহের নিরিখে সেরা- উলুবেড়িয়া, হালিশহর , কলকাতা পুরসভা, বৈদ্যবাটী ও বাঁকুড়া পুরসভা। খারাপ প্রদর্শন- আলিপুরদুয়ার, বালি, বরানগর, শিলিগুড়ি, শান্তিপুর পুরসভা। হাউজিং-এর ক্ষেত্রে সেরা- উলুবেড়িয়া, জঙ্গিপুর, হাবড়া, কৃষ্ণনগর, মধ্যমগ্রাম পুরসভা খারাপ প্রদর্শন- বিধাননগর, আসানসোল, রায়গঞ্জ ও কন্টাই পুরসভা (এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব সম্পত্তি করে রেখে দিয়েছে নিজস্ব। তা ভেঙে দেব আমি।) পরিচ্ছন্নতা এবং জঞ্জাল পরিষ্কার সেরা- কলকাতা, সিরহাট, বৈদ্যবাটী উত্তরপাড়া,উত্তর দমদম, নবদ্বীপ পুরসভাখারাপ- কন্টাই, ডালখোলা, পানিহাটী, হাওড়া, সিউড়ি পুরসভা।