এই মুহূর্তে জেলা

৩০০ বছরের শীতলা পূজাকে ঘিরে ভক্তের ঢল শ্রীরামপুরের চাতরায়।


হুগলি, ১৮ মার্চ:- তিনশো বছরের প্রাচীন শীতলা পুজো কে ঘিরে শ্রীরামপুরের চাতরা শীতলাতলার মন্দিরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। অষ্টমী ও নবমী তিথিতে বিগ্রহে জল ঢালার জন্য মন্দিরের সীমানা পেড়িয়ে এক কিমি পর্যন্ত মহিলাদের লম্বা লাইন ছিল। পুরুষদের জল ঢালার জন্য আলাদা লাইনের ব্যবস্থা ছিল। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে পাল্লা দিয়ে। মন্দির কমিটি জানিয়েছে রবিবার ও সোমবার সকাল পর্যন্ত বিগ্রহে জল ঢালবেন ভক্তরা। হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা ও বর্ধমান ও নদীয়া থেকে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান মন্দিরে।ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির পাশাপাশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ কর্মীরাই ভিড় নিয়ন্ত্রন করেছেন। কোন রকম দুর্ঘটনা এড়াতে আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পানীয় জল, অস্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র ছাড়াও পুরসভার মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়েছে পুজা প্রাঙ্গনে। শীতলাতলার প্রাচীন পুজো কে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে যথেষ্ঠ ভাবাবেগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায় পুজো শনিবার থেকে শুরু হতেই চাতরা ছাড়াও নবগ্রাম ও বাহির শ্রীরামপুরের বাসিন্দাদের একাংশ নিরামিষ আহার করেন। পুজোর ষষ্ঠীর দিন থেকে দশমী পর্যন্ত নিমপাতা, এঁচোড়, সজনে ডাটা খাওয়া থেকে বিরত থাকেন ভক্তরা। অষ্টমীর দিন মায়ের মূল পুজো হয়।মহিলারা দীর্ঘক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে বিগ্রহে জল ঢালেন। অনেকে মানসিক থাকায় দন্ডী কাটেন।

একটা সময়ে শীতলা পুজোতে প্রচুর ছাগ বলি হত। হাওড়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর থেকে ভক্তরা মানসিক করে ছাগ বলি দিত। এখন পশু বলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মায়ের বিগ্রহে ডাবের জল ঢেলে পুজো দেন ভক্তরা। এ দিন শেওড়াফুলি চারা বাগান থেকে পুজো দিতে এসে ছিলেন পুজা দাস। তিনি বলেন বেশ কয়েক বছর ধরেই শীতলা পুজোয় মায়ের মাথায় জল ঢালি। এবারে অষ্টমী তিথি দুদিন পড়ায় এ দিন সকালেই জল ঢেলেছি।প্রায় ঘন্টা দেড়েক লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।তাতে কোন অসুবিধা হয়নি। শীতলামন্দির ট্রাষ্টি বোর্ডের সদস্য অশোক দাস বলেন, কয়েকশ বছরের প্রাচীন শীতলা পুজো পরম্পরা ও ঐতিহ্য মেনেই হয়ে আসছে। তবে আগের তুলনায় মানুষের ভির বাড়ায় আমাদের দায়িত্ব অনেক বেড়েছে। পুজোর দিন গুলিতে যাতে কোন সমস্যা না হয় তারজন্য প্রশাসন আমাদের সাহায্য করে। পুজো শুরু থেকে বিসর্জন প্রচুর পুলিশ মন্দিরে ডিউটি করেন। অষ্টমী পুজোতে কয়েক হাজার ভক্তের ঢল নামে মন্দিরে।বিধায়ক অরিন্দম গুই বলেন, পুজো কে নিয়ে এলাকা মানুষের মনে ধর্মীয় ভাবাবেগ রয়েছে। সারা বছর পুজো হলেও বাৎসরিক শীতলাপুজার গুরুত্ব আলাদা। পুরসভা থেকে পানীয় জল ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে দুর্ঘটনা এড়াতে জি টি রোডে যান নিয়ন্ত্রণ করা হয়।