এই মুহূর্তে কলকাতা

ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগ রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারে।


কলকাতা, ২৭ জানুয়ারি:- আলিপুর জেলের অনুকরণে রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রতিটি সংশোধনাগারের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন জেলে বন্দি থাকা বিপ্লবীদের জীবন কাহিনী, নানা নথিপত্র, দলিল দস্তাবেজ একত্রিত করে তা সংরক্ষণ করা হবে বলে রাজ্যের কারা দফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারা দফতর সূত্রে জানা গেছে বিভিন্ন জেলে বিপ্লবীদের তালিকা খুঁজে বার করা হচ্ছে। তাঁদের জীবন-কাহিনীকে তুলে ধরা হবে জেল চত্বরের বিশেষ সংগ্রহশালায়। পাশাপাশি যে সব সেলে তাঁরা বন্দি ছিলেন সেখানে তাঁদের নামাঙ্কিত ফলক লাগানো হবে। নথিপত্র সংরক্ষণে বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। কারা দপ্তর সূত্রের খবর, ইংরেজ আমলে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নানা সময় কাটাতে হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন জেলে।‌ ফলে তাঁদের অনেকেরই জীবন কাহিনী রয়ে গিয়েছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। বহু বিপ্লবীকেই দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যে কাটাতে হয়েছে বিভিন্ন সংশোধনাগারের ক্ষুদ্র সেলে।

সেই সমস্ত স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন জেলের রেকর্ড রুমে। যা এক কথায় অমূল্য সম্পদ বললেও কম বলা হবে। ওই সমস্ত নথির মধ্যে রয়েছে জেল থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া সমন, রেজিস্টার্ড বুক, হাজিরা খাতা, পিওন খাতা, পরোয়ানার নথি, বিভিন্ন বিপ্লবীদের ফটোগ্রাফ প্রভৃতি। ওই সমস্ত জিনিসপত্রকে একত্রিত করে বিভিন্ন জেলে তা সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওই সমস্ত নথিপত্র যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার জন্যও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যে সমস্ত জেলে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ফাঁসি হয়েছে, সেই সমস্ত বিপ্লবীদের ফাঁসি সংক্রান্ত নানা নথিপত্র, আদালতের আদেশের নথিপত্র, ফাঁসি কাঠ সহ সেই সমস্ত বীর সেনানীদের সেলগুলোও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন অনুষ্ঠানে বিশিষ্টরা মিউজিয়াম দেখতে এলে যাতে জানতে পারেন, ওই সংশোধনাগারে কোন কোন স্বাধীনতা সংগ্রামী বন্দি অবস্থায় কাটিয়ে ছিলেন। এবং কোন বিপ্লবীকে ফাঁসি কাঠে প্রাণ দিতে হয়েছিল। হাজারো নথির ভিড়ে চাপা পড়ে রয়েছে ওই সমস্ত ইতিহাসের মনি মানিক্য। তাকে সযত্নে তুলে এনে সংরক্ষিত করার চেষ্টা চলছে। যাতে আগামী দিনে সাধারণ মানুষ তা চাক্ষুষ করার সুযোগ পান। জানতে পারেন- ইতিহাসের না জানা নানা কথা ও কাহিনী।