সুদীপ দাস, ৯ সেপ্টেম্বর:- ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম! নদীয়ার নাকাশিপাড়া থানার বেথুয়াডহরীর সত্তোরোর্দ্ধ দম্পতি প্রফুল্ল দাস ও কানন দাসের বৃদ্ধাশ্রম অবশ্য জোটেনি। ছেলে-মেয়ের অত্যাচারে ঘর ছাড়তে হয়েছিল বটে। তবে বিগত সাতদিন ধরে খোলা পৃথিবীর বুকেই দু’জনে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ঘুরতেই ঘুরতেই চলে আসেন ব্যান্ডেলে। ছেলে-মেয়ের অত্যাচারে ঘর ছাড়লেও একে অপরের হাত ধরে থাকায় বাকি জীবনটা পথে-ঘাটে ঘুরেই কাটিয়ে দিতে পারবেন বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু বাদ সাধে দু’দিন আগে। যখন ব্যান্ডেলের কোন এক জায়গা থেকে হাত ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। অচেনা অপরিচিত জায়গায় বহু খোঁজাখুজি করেও একে অপরের দেখা পায়নি। গতকাল সাহাগঞ্জ কেওটা এলাকায় একটি ইলেকট্রিক পোষ্টের নীচে বসেছিলেন কানন দাস। স্থানীয় যুবক শুভেন্দু পাল কাননদেবীর সাথে কথা বলে জানতে পারেন স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের কথা। শুভেন্দুই কাননদেবীর টিফিনের ব্যবস্থা করে যোগাযোগ করেন চুঁচুড়া আরোগ্যর পৃষ্ঠপোষক ইন্দ্রজিৎ দত্তের সাথে।
এরপরই আরোগ্যে সদর দপ্তরে ঠাঁই হয় কাননদেবীর। শুরু হয় কাননদেবীর স্বামী প্রফুল্লের খোঁজ। একইসাথে দম্পত্তির পরিবারের খোঁজও শুরু করে ইন্দ্রজিৎবাবু। রাতে আরোগ্যর সদস্যরা কথা বলেন বৃদ্ধার সঙ্গে। জানা যায়, বেথুয়াডহরীতে ৩৪নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে থাকা বাড়িটি লিখিয়ে নেওয়ার জন্য নিজের ছেলে ও মেয়ের কম অত্যাচার সহ্য করেনি বৃদ্ধ দাস দম্পতি। সন্তানদের হাতে মারধরও খেতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়েই ঘর ছেড়েছিলেন দু’জনে। শুক্রবার ইন্দ্রজিৎবাবু বেথুয়াডহরীর বিধায়ক কল্লোল খাঁ এর সাথে ফোনে কথা বলেন। এরপর চুঁচুড়া থানার সহযোগীতায় নাকাশিপাড়া থানার সাথে যোগাযোগ করে তাঁর পরিবারের খোঁজ পাওয়া যায়। আজ দাস দম্পতির ছেলে বাবা-মাকে নিতে আসেন চুঁচুড়ায় আরোগ্যর দপ্তরে। বাবা-মা ঘর ছাড়ায় এতটুকু বিচলিত নয় ছেলে। কারন সাতদিন ধরে মা-বা নিখোঁজ অথচ নাকাশিপাড়া থানায় সামন্য মিসিং ডায়েরিও করেনি সন্তান। এদিন প্রথমে এই দম্পতি অত্যাচারিত ছেলের সাথে যেতে নারাজ। এরপর থেকে সন্তানরা আর কোনরকম শারিরীক কিংবা মানসিক অত্যাচার করার সুযোগ পাবে না বলে সকলে অভয় দেওয়ার পর অবশেষে দাস দম্পতি ঘরের পথে রওনা দেয়।







