এই মুহূর্তে কলকাতা

সব প্রস্তুতি থাকা স্বত্বেও পঞ্চম দফার ভোটেও পুরোপুরি এড়ানো গেলো না অশান্তি।

কলকাতা , ১৭ এপ্রিল:- সব রকমের প্রস্তুতি থাকা স্বত্তেও রাজ্যের পঞ্চম দফার ভোটের দিনে অশান্তি পুরোপুরি এড়ানো গেলনা। অন্যান্য দফার মতো এদফাতেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্ত নানা হিংসাত্মক ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের পঞ্চম দফার ভোট গ্রহণ পর্ব। বোমা, গুলি, ইটবৃষ্টি কিছুই বাদ যায়নি। এই পর্বে ৬ জেলায় মোট ৪৫ টি আসনে হবে ভোট নেওয়া হয়। এর মধ্যে ভোট ঘিরে সব থেকে বেশি হিংসার খবর এসেছে কলকাতা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগণা ও নদীয়া থেকে। সারা রাজ্যের লোক টিভির পর্দায় সেসব ঘটনার ছবি দিনভর দেখলেও নির্বাচন কমিশনের দাবি মোটের ওপর ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এদিন বিকেল ৫ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে গড়ে ৭৮.৩৬ শতাংশ। পঞ্চম দফায় ভোট সন্ত্রাসের সবথেকে বড় ছবি হিসাবে ধরা রইল কল্যাণী বিধানসভার গয়েশপুর। সেখানে বিজেপি কর্মী এক যুবকের বাড়িতে হামলা চালায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। বিজেপি কর্মীর বৃদ্ধ বাবাকে হেনস্থা করা হয়। ওই ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গয়েশপুরের বকুলতলায় ২৭০ নম্বর বুথে বোমাবাজিরও অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ভোট দিতে এসে বোমার আঘাতে জখম হন এক বিজেপি কর্মী। এরপর বাঁশ-লাঠি নিয়ে পথ অবরোধ শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। নদীয়ার শান্তিপুরেও ভোট ঘিরে বোমা বাজি ও গুলি চলার খবর এসেছে।

ওই ঘটনায় আহত এক তৃণমূল সমর্থককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শান্তিপুরের বেলেডাঙায় বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকারকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের বিক্ষোভে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তর ২৪ পরগণার দেগঙ্গায় ২১৫ নম্বর বুথে বিধি ভেঙে জমায়েত হঠাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী শূণ্যে গুলি চালনার অভিয়োগ ওঠে। যদিও জেলাপ্রাশাসনের কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর ওই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিধাননগরের দত্তাবাদে বেআইনি জমায়েত হঠাতে পুলিশে লাঠি চালায়। পানিহাটির বিজেপি প্রার্থী সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষোভ গো ব্যাক স্লোগানকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। বেলঘরিয়ার ব্রিজে কামারহাটির বিজেপি প্রার্থী রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলায় জখম হন প্রার্থী। বহিরাগতদের নিয়ে এসে তৃণমূল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজুর গাড়ি গাড়ি লক্ষ্য করে ইঁট, বোমা ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন।

এছাড়াও এদিন আরও বেশ কয়েকটি যায়গা থেকে শাসক তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনায় ভোটপর্ব বিঘ্নিত হওয়ার খবর মিলেছে।কলকাতা লাগোয়া বিধান নগরে শান্তিনগরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ ও হাতাহাতি ও একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ওই এলাকা। ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগে নয়াপট্টিতে বিজেপি প্রার্থী সব্যসাচী দত্তকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।বরানগরের বিজেপি প্রার্থী পার্নো মিত্রকে ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কামারহাটিতে বুথের মধ্যে বিজেপির পোলিং এজেন্টের মৃত্যুতে সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কল্যাণীর বকুলতলায় ২২৫ নম্বর বুথে সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা তৈরি হয়। সকালে বিজেপি সমর্থকদের উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তৃণমূলের বাইক বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র, রড-লাঠি নিয়ে বিজেপি সমর্থকদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। আহত হন বেশ কয়েকজন বিজেপি সমর্থক।