এই মুহূর্তে জেলা

চারশো বছরের ইতিহাসে বিরল , শিয়রে করোনা ; বড়দিনে ব্যান্ডেল চার্চে বন্ধ প্রার্থনা।

সুদীপ দাস , ১৮ ডিসেম্বর:- BANDEL CHURCH REMAINS CLOSED TO VISITIRS AND PILGRIMS DUE TO COVID-19 CRISIS. অর্থাৎ ব্যান্ডেল চার্চ তীর্থযাত্রী এবং দর্শনার্থীদের জন্য কোভিড-১৯ সঙ্কটের কারণে বন্ধ থাকবে। ১৫৯৯সালে স্থাপনের পর যা বিরল। দীর্ঘ ৪২২ বছর ধরে হুগলী নদীর পশ্চিমপারে ব্যান্ডেল চার্চ ইতিহাস বহন করে আসছে। শুধু হুগলি নয় রাজ্য ছাড়িয়ে দেশের মধ্যেও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অর্জন করেছে অধুনা ব্যান্ডেল ব্যাসিলিকা। প্রত্যেক বছরই বহু পর্যটক ব্যান্ডেল চার্চে আসেন। তবে শীত পরতেই চার্চ মুখী হওয়া শুরু করেন দূরদূরান্তের মানুষ। আর ডিসেম্বর পরতেই ভিড় বাড়তে থাকে। ২৫শে ডিসেম্বর উপলক্ষে ব্যান্ডেল চার্চে হাজার-হাজার মানুষের সমাগম হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশ কয়েকবছর আগে থেকে ২৫শে ডিসেম্বর ও ১লা জানুয়ারী ব্যান্ডেল চার্চের মূল ভবনের গেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। যদিও সাধারন মানুষের কথা চিন্তা করে চার্চের সুদৃশ্য মাঠে ঢোকার অনুমতি মিলত। কিন্তু এবারে সেটাও হবে না। কারন কোভিড আবহে ব্যান্ডেল চার্চের দরজা এখনও খোলেনি কর্তৃপক্ষ। এবছর তা খোলার কোনরকম আশা নেই বলে জানিয়ে দিলেন চার্চের ফাদার “ফাদার ফ্রান্সিস”।

পাশাপাশি ২৪শে ডিসেম্বর গভীর রাত ১২টায় বড়দিনের ঐতিহ্যময় প্রার্থনাও এবারে সম্পূর্ন বন্ধ থাকবে। যেটুকু হবে পরের দিন অর্থাৎ ২৫শে ডিসেম্বর সকাল ৯টায়। যেই প্রার্থনায় ৫০ জন করে চারবারে সর্বমোট ২০০জন ব্যান্ডেল চার্চের সদস্যরা অংশগ্রহন করতে পারবে। বাকিদের দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে ভার্চুয়াল প্রার্থনার ব্যাবস্থা থাকবে। ব্যান্ডেল চার্চের ভার্চুয়াল প্রার্থনা অবশ্য লকডাউনের পর থেকেই প্রতি রবিবার শুরু হয়েছে বলে জানান ফাদার। ফাদার ফ্রান্সিস বলেন এবারে বড়দিনে মাদার মারিয়া ও যীশুর সামনে সবার প্রথমে বিশ্বে কোভিডে মৃত ব্যাক্তিদের উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। পাশাপাশি কোভিডে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সুস্থ কামনা সর্বোপরি মহামারি দূরীকরনের আর্জিও প্রভূর কাছে জানানো হবে। ফাদার বলেন চার্চের গেট বন্ধ থাকায় এবার বাইরের গেটের সামনেই গোশালা তৈরী করা হবে।

যাতে বাইরে থেকেই সাধারন মানুষরা বড়দিনে প্রভু যীশুর জন্মস্থান গোশালা দেখতে পারেন। চার্চ বন্ধ থাকায় এখানকার ছোটবড় দোকানদারাও মহাসমস্যায় পরেছেন। দোকানগুলি লকডাউনে পুরোপরি বন্ধ ছিলো। কেউ সব্জি কেউবা মাছ বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। আনলক পর্ব চালু হওয়ায় বড়দিনের কথা ভেবে অনেকে দোকান খুললেও পর্যটকরা এসে চার্চ বন্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন। ফলে তাঁদের বিক্রিবাটাও তলানিতে। একই অবস্থা এখানকার মাঝিদেরও। ব্যান্ডেল চার্চ দেখে বহু দর্শনার্থী গঙ্গাবক্ষে নৌকা সহযোগে হুগলির ইমামবাড়ায় যেতেন। চার্চ বন্ধ থাকায় নৌকা করে ইমামবাড়া যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন সাধারন মানুষ। শীত পরতে যেসমস্ত দর্শনার্থী ব্যান্ডেল চার্চে আসছেন তাঁরাও মন খারাপ করে বাড়ি ফিরছেন।