এই মুহূর্তে কলকাতা

বিধানসভায় আস্থা মুকুলে , জোর গলায় জানাল পদ্ম শিবির।


কলকাতা , ৪ অক্টোবর:- রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল রায়ের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখছে বিজেপি। রাজ্যে তৃণমূলের জয়যাত্রার অন্যতম কান্ডারী মুকুলকে ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় জয় ছিনিয়ে আনা যাবে বলে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। দিন কয়েক আগেই মুকুল রায়ের পদ প্রাপ্তির মধ্যে দিয়ে তার প্রতি বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই আস্থার বহিঃপ্রকাশ দেখা গিয়েছিল। এবার তা প্রকাশ্যেই স্বীকার করে নিল গেরুয়া শিবির। রবিবার কলকাতায় ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রোর ফুলবাগান স্টেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুকুল রায়ের প্রতি নিজেদের আস্থার কথা অকুণ্ঠ ভাবে প্রকাশ করলেন বিজেপির শীর্ষ নেতারা। মেট্রো স্টেশনের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুকুল রায়কে একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ‘প্রধান মুখ’ হিসেবে তুলে ধরলেন বিজেপি নেতৃত্ব। এদিন মুকুল রায়কে ‘বড় ভাই’ বলে সম্বোধন করেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

তিনি বলেন, “বাংলা এমন জায়গা যেখানে তৃণমূল করলে সাধু, আর অন্য পার্টি করলেই তাঁর বিরুদ্ধে কেস। আমার বিরুদ্ধেই তো ২০টা কেস রয়েছে। মুকুলদা, সব্যসাচী সবার নামেই কেস রয়েছে। ভারতী ঘোষ যখন আইপিএস ছিলেন, তখন মমতার মেয়ের মতো ছিলেন। এখন উনি মমতার শাশুড়ির মতো হয়ে গিয়েছেন।” তাঁর কথায়, “আমরা দেশের জন্য রাজনীতি করেছি, কখনও চেয়ারের জন্য করিনি। রাম মন্দিরের জন্য চার-চারজন মুখ্যমন্ত্রীকে সরে যেতে হয়েছে। কখনও আমাদের ক্ষমতা দখল উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু এখানে শিক্ষা নিয়েও রাজনীতি হয়, মা-কে আম্মি লেখা হয়।” তোপ দাগেন বিজয়বর্গীয়। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “কাশ্মীরে মোদীজির নেতৃত্ব ৩৭৭ উঠেছে। এখন ওখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হচ্ছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী ভোটের জন্য এরাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের শেল্টার দিচ্ছেন। মমতা এবং ওর দল, আমাদের উপর অত্যাচার করছে। আমাদের অনেককেই গুলি করে মেরেছে। আমরা সব কিছুই দেখছি। কিন্তু আমরা চুপচাপ থাকব না। সবাইকে দেখে নেব। ২০২১ নির্বাচনে এই বাংলায় আমরাই সরকার করব। আমরা এই ভ্রষ্টাচারের সরকারকে উপড়ে ফেলব।”

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা অরবিন্দ মেননও। নতুন কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মুকুল রায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে দেখা যায় তাঁকেও। অরবিন্দ মেনন বলেন, “মুকুলদা পঞ্চায়েত এলাকার প্রতিটি জায়গা চেনেন।” আগামী ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে “ঝোপড়ি ঝোপড়ি যেতে হবে, খোপড়ি খোপড়ি ইঞ্জেকশন পুশ করতে হবে”, বলে টার্গেট বেঁধে দেন তিনি। আরও বলেন, “দিদি কে বলে দাও, তুমি ছেড়ে দাও।”রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, “বিজেপি পার্টি একটা প্রতিষ্ঠ পার্টি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে খুব ছোট্ট পার্টি। এই ছোটো পার্টিকে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে মুকুলদাকে চাই। মুকুলদা, কৈলাসদা দেখিয়ে দিয়েছেন, কীভাবে ২টো সিট থেকে ১৮টা সিট করতে হয়।”