এই মুহূর্তে জেলা

সামাজিক ক্ষেত্রে এক ব‍্যতিক্রমী নজির রাখছে পিপলস সোস‍্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।


হুগলি, ৭ মার্চ:- ‘সকলের জন্য স্বাস্থ্য’ – এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গত প্রায় এক দশক ধরে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে হুগলি জেলায় কাজ করে চলেছে পিপলস সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন (পি.এস.ডব্লু.এফ)। প্রাথমিকভাবে কাজকর্ম স্বাস্থ্যমেলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত প্রচারে সীমাবদ্ধ থাকলেও পরবর্তীতে মেলার পাশাপাশি শ্রীরামপুর – উত্তরপাড়া ব্লকের কানাইপুর, নবগ্রাম ও রঘুনাথপুর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে হেলথ ক্যাম্প সংগঠিত করা শুরু করে ফাউন্ডেশন। উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যমেলাটি জেলার মধ্যে তো বটেই আকারে, অংশগ্রহণে এবং মানুষের উপস্থিতির বিচারে রাজ্যের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যমেলা হিসেবে পরিচিত হয়েছে।

পিপলস সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও বৈজনাথ চৌধরী চ্যারিটেবল ট্রাস্টের আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে গত দু’বছর ধরে খুব কম খরচে কানাইপুর, নবগ্রাম ও রঘুনাথপুর অঞ্চলের মানুষেরা জেনারেল মেডিসিন, অস্থি বিশেষজ্ঞ, স্ত্রী ও ধাত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পেয়ে থাকেন। গত দুবছরে আট হাজারের বেশি রোগী এর মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। গত আগস্ট মাস থেকে দৃষ্টিদীপ আই ইনস্টিটিউটের সহায়তায় শুরু হয়েছে কমিউনিটি আই ক্লিনিক। এখানে মাত্র পঞ্চাশ টাকার বিনিময়ে চক্ষুশল্যবিদের পরামর্শ মেলে। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল রোগীদের চশমা প্রদান ও চোখের ছানি অস্ত্রোপচার (ফেকো) বিনামূল্যে করানোর ব্যবস্থা হয়। গত ছ’মাসে ৫০০ জনেরও বেশি রোগীকে বিনামূল্যে চশমা ও ১০০ জনেরও বেশি রোগীর ছানি অস্ত্রোপচার সফলতার সঙ্গে করা হয়েছে।

এছাড়াও, কানাইপুর, নবগ্রাম পঞ্চায়েত ও কোন্নগর পৌর এলাকায় স্বেচ্ছায় রক্তদান, মরণোত্তর অঙ্গদান দেহদান, চক্ষুদান আন্দোলনের সঙ্গেও পিপলস সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন জড়িত। কানাইপুর পঞ্চায়েতের বাঁশাই ও চক্রবর্তীনগরে মহিলাদের জন্য দুটি সান্ধ্যকালীন বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রও পরিচালনা করে ফাউন্ডেশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্পাদক কিশলয় ঘোষ জানান, রোগের চিকিৎসা শুধু নয়, রোগ প্রতিরোধের দিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা সচেতনতা প্রসারে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্যাম্প সংগঠিত করি। পাশাপাশি, শীঘ্রই নামমাত্র মূল্যে প্যাথলজি, ডিজিটাল এক্স রে, ইসিজি আমরা চালু করব। অদূর ভবিষ্যতে কম খরচে ‘ডে কেয়ার’ পরিষেবাও আমরা শুরু করব।