এই মুহূর্তে কলকাতা

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম নিয়ন্ত্রণ না হলে কর ছাড়ের সুফল পাবেনা মানুষ- চন্দ্রিমা।


কলকাতা, ১ ফেব্রুয়ারি:- সাধারণ গরিব মানুষের কথা ভেবে তৈরি হয়নি কেন্দ্রীয় বাজেট। জিনিষ পত্রের আগুন দাম নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে করছাড়ের কোনও সুফলই পাবেন না সাধারণ মানুষ। এই ভাষাতেই ২০২৩-২৪ এর কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।আবাস যোজনা থেকে শুরু করে একশ দিনের কাজ যে ভাবে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলোকে বঞ্চিত করা হয়েছে তারও কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি। এদিন সংসদে কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার পর পর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি কমানোর জন্য কী করা হবে সেই বিষয়ে কোনও আলোকপাত করা হয়নি। মুদ্রাস্ফীতি যদি এইভাবে হতে থাকে তাহলে এই করের ছাড় দিয়েও মানুষের লাভ হবে না কোনও। নতুন কর কাঠামো হলেও কোনও লাভ হবে না। এটা হঠাৎ আলোর ঝলকানি লেগে ঝলমল করে চিত্তের মতো মনে হচ্ছে। কিন্তু যদি ভিতরে গিয়ে ভাবি তাহলে আমরা বুঝব যে মানুষ এর আসল ফলটা কিন্তু পাবেন না।’

আবাস যোজনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘বরাদ্দ বৃদ্ধি শুধু হলেই হবে না তো, সেটা তো খরচের মধ্যে আনতে হবে। আমাদের অভিজ্ঞতা, ২০১৮ সালে সার্ভে হয়েছিল বাংলায়, সেখানে অনেক মানুষ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, সেই তালিকায় ৫৯ লক্ষ ছিল সংখ্যা। তারপর কেন্দ্রীয় সরকারের বলে দেওয়া নিয়মকানুন মেনেই সেই তালিকায় কাটছাঁট করে ১৭ লক্ষ বাদ দেওয়া হয়। বাকিদের মধ্যেও ১১ লক্ষ ৩৬ হাজারের অনুমোদন মিলেছে, টাকা আসেনি। তাহলে এবার যদি ধরা যায় ৫৯ লক্ষের বাজেট বরাদ্দ ছিল, কিন্তু পাঁচ বছর পরে ১১ লক্ষ ৩৬ হাজারেরও টাকা আসেনি। অর্থাৎ এই বরাদ্দ আর সেই টাকা বাস্তবে দেওয়ার মধ্যে অনেক তফাত আছে। এবং এই জায়গায় বিভাজন করা হয় বলেও দেখেছি আমরা। বিজেপি শাসিত রাজ্যের জন্য একরকম, আর যেগুলো বিজেপি বিরোধী শাসিত রাজ্য তাদের জন্য আরেক রকম। বাংলার জন্য তো একেবারেই অন্যরকম। ১০০ দিনের টাকা দেয়নি, অথচ বরাদ্দও কমেছে। অর্থাৎ গ্রামীণ খাত দেখার কোনও চোখ নেই। আমি তো আগেই বলেছি, সাধারণ মানুষ, দরিদ্র শ্রেণির মানুষ, গ্রামের মানুষ, তাঁদের কথা ভেবে এই বাজেট তৈরি হয়নি।’