এই মুহূর্তে জেলা

মেয়েদের আত্মরক্ষার পাঠ দিচ্ছে ‘তেজস্বিনী’। হাওড়া সিটি পুলিশের অভিনব উদ্যোগ।


হাওড়া, ৩০ জানুয়ারি:- রাস্তাঘাটে, কর্মক্ষেত্রে বা অন্যত্র মেয়েদের যাতে অবাঞ্ছিত বিপদের মুখে না পড়তে হয় তারজন্য আত্মরক্ষার পাঠ দিচ্ছে ‘তেজস্বিনী’। হাওড়া সিটি পুলিশের উদ্যোগে নতুন এই প্রকল্প ‘তেজস্বিনী’র মূল বার্তাই হলো “নারীশক্তি দীর্ঘজীবী হোক”। আজকের দিনে মহিলারা বিভিন্ন কর্মসূত্রে সময়ে অসময়ে বাড়ির বাহিরে বের হন এবং সেখানে শহরের রাস্তায় অলিতে গলিতে বিভিন্ন অপরাধের শিকারের সম্ভাবনা থেকে যায়। হাওড়া সিটি পুলিশের জনমুখী কর্মসূচিতে তাই এবার যোগ হলো তেজস্বিনী নামাঙ্কিত এক প্রশিক্ষণ শিবির যার দ্বারা রাস্তায় ও বাড়ির বাহিরে কিশোরীরা যাতে নিজেরাই অপরাধের বিরুদ্ধে নিজেকে আত্মরক্ষা করতে সক্ষম হয়। জানা গেছে, এই ভাবনা নিয়েই হাওড়া সিটি পুলিশের তিন ডিভিশনের বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ৮০০ জন ছাত্রী ও কিছু ইচ্ছুক ছাত্রীর মায়েদেরকেও এই প্রশিক্ষণ দেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহিলাদের প্রাথমিকভাবে মৌলিক আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো ও অবাঞ্ছিত শারীরিক হেনস্থার মোকাবিলায় স্বনির্ভর করতেই এই প্রকল্প বলে জানা গেছে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের উইনার্স টিমের মহিলা সদস্যাদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

দুই সপ্তাহ ব্যাপী এই প্রশিক্ষণ শিবির চলছে লিচুবাগানে অবস্থিত হাওড়া সিটি পুলিশের ইনডোর স্টেডিয়াম, বেলুড়ের অগ্রসেন বালিকা শিক্ষা সদন, ডোমজুড়ের এশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, গোলাবাড়ির সালকিয়া বালিকা বিদ্যালয় ও শিল্পাশ্রমে। হাওড়া সিটি পুলিশের এই কর্মসূচি সম্পর্কে প্রকল্পের মোটিভেশনাল স্পিকার তথা তেজস্বিনী’র ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ মৌসুমি পাল মজুমদার (ক্যারাটে প্রশিক্ষক) বলেন, “এর মাধ্যমে ছাত্রীরা উপকৃত হবে। এর আগে কলকাতায় মাত্র ৫ দিনে প্রায় সাড়ে তিন হাজার জনকে এই প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ভালো ফিড ব্যাক পাওয়া গেছে। এখানে ১০ দিনের প্রশিক্ষণ হচ্ছে। শুধু শারীরিক শিক্ষা নয়, এর মাধ্যমে মেয়েদের মানসিকভাবে সচেষ্ট করব। প্রচুর টেকনিক ওরা শিখবে।” অন্যদিকে, হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি নর্থ অনুপম সিং বলেন, “আমরা মোট ৮০০ জন ছাত্রীকে সেল্ফ ডিফেন্সের ট্রেনিং দেব। এরমধ্যে ৪০০ জনকে ট্রেনিংয়ের প্রথম পর্ব আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ এই কর্মসূচি চলবে। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকার চারটি পৃথক স্থানে এই কর্মসূচি চলছে। আমরা আশা করছি আমাদের এই কর্মসূচি সফল হবে। এবং মেয়েরা সেল্ফ ডিফেন্সে পারদর্শী হবে।”