এই মুহূর্তে জেলা

গরম মোম ঢেলে শিশু ছাত্রকে শাস্তি , হাওড়ায় রাজ্য চাইল্ড রাইটস কমিশনের প্রতিনিধিরা।


হাওড়া, ২৭ আগস্ট:- হোমওয়ার্কের পড়া দিতে না পারায় মোমবাতির গরম মোম ঢেলে শিশু ছাত্রকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা সরোজমিন করতে শুক্রবার দুপুরে হাওড়ায় আসেন রাজ্য চাইল্ড রাইটস কমিশনের প্রতিনিধিরা। হাওড়ার গোলাবাড়ির ওই ঘটনা এদিন খতিয়ে দেখেন ওয়েস্ট বেঙ্গল চাইল্ড রাইটস কমিশনের সদস্যা যশবন্তী শ্রীমানীর নেতৃত্বে চারজনের এক প্রতিনিধি দল। প্রথমে তাঁরা যান গোলাবাড়ি থানায়। সেখানে আধিকারিকের সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে কথাবার্তার পর ওই প্রতিনিধি দল যান শিশুটির বাড়িতেও। সবরকমের সাহায্যের আশ্বাসও দেন তাঁরা। এই ঘটনার পর থেকেই শিশুটি ট্রমায় রয়েছে বলেও এদিন দাবি করেন তাঁরা।

ওয়েস্ট বেঙ্গল চাইল্ড রাইটস কমিশনের সদস্যা যশবন্তী শ্রীমানী বলেন, এটা একটা দুঃখজনক ঘটনা যে একজন শিক্ষক এভাবে নাবালক ছাত্রের গা পুড়িয়ে দিয়েছে। এই ট্রমা একজন শিশুর মনে সারাজীবন থেকে যাবে। যেখানে একশ্রেণির শিক্ষক কোভিড পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ওই শিক্ষকের এমন বিকৃত মানসিকতা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনার ব্যাপারে পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছে। শিশুটির মেডিকেল করা হয়েছে। তার পাশে পশ্চিমবঙ্গ শিশু অধিকার কমিশন আছে। পুলিশ এফআইআর করেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিক্ষক পলাতক।

পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। এদিন পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন যশবন্তী শ্রীমানী। তিনি পরে এবিষয়ে বলেন, শিশুটির বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। ঘটনার দিন বাড়িতে এসে ওই শিক্ষক একবার মোমবাতি চায়, একবার হাতা চায়। ভয় দেখানোর জন্য এগুলো চেয়েছিলেন বলে শিক্ষক তখন দাবি করেছিলেন। কিন্তু ছাত্রকে শাস্তি দেওয়ার নামে এমন ভয়ঙ্কর কাজ তিনি করবেন তা পরিবারের লোকেরা ভাবতেও পারেননি। ঘটনার সময় শিশুটির দিদি, দাদা সেখানে ছিল। এই ঘটনা কাউকে জানালে তাদেরও মুখ পুড়িয়ে দেবে বলে ভয় দেখিয়েছিলেন ওই শিক্ষক। এই পরিস্থিতিতে শিশুটিও ট্রমায় রয়েছে। এখন শিশুটির পাশে আমরাও রয়েছি।