এই মুহূর্তে কলকাতা

চটকল মালিকদের দেড় মাসের মধ্যে বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত দশ হাজার অস্থায়ী শ্রমিকের চাকরি স্থায়ী করার নির্দেশ


কলকাতা , ১০ অক্টোবর:- রাজ্য সরকার চটকল মালিকদের আগামী দেড় মাসের মধ্যে বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত দশ হাজার অস্থায়ী শ্রমিকের চাকরি স্থায়ী করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি আরও দশ হাজার অস্থায়ী শ্রমিকের পদোন্নতিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ লকডাউনের জন্যে বকেয়া থাকা শ্রমিকদের বেতন এবং উৎসবের মরসুমে প্রাপ্য বোনাস দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চটকল শিল্পের সমস্যা নিয়ে এক ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে মালিকপক্ষ গত বছর দশ হাজার শ্রমিককে স্থায়ী করার পক্ষে মত দিলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি। এদিকে চুক্তি অনুযায়ী স্থায়ীকরণ না করলে রাজ্য সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট চটকল মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন।

আইজেএমএ-কে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চটকল শিল্পের সমস্যা মেটানো নিয়ে গত বছর মার্চে যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছিল, তাতে ১০ হাজার অস্থায়ী শ্রমিককে স্থায়ী করার পক্ষে সায় দিয়েছিল মালিকপক্ষ। পাশাপাশি অস্থায়ী ‘বদলি’ কর্মীকে পদোন্নতির মাধ্যমে স্পেশাল বদলি করা হবে বলেও ঠিক হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। তাই সেই চুক্তি অনুযায়ী আগামী দেড় মাসের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার শ্রমিকের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করতে হবে মালিকপক্ষকে। কোন চটকলে কতজন স্থায়ী বা স্পেশাল বদলি শ্রমিক তালিকাভুক্ত হবে, তা ১৫ দিনের মধ্যে দপ্তরকে জানানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইজেএমএ’র চেয়ারম্যান রাঘবেন্দ্র গুপ্তা বলেন, এই শিল্পকে বাঁচাতে কেন্দ্র কোনও আর্থিক প্যাকেজ না দেওয়ায় তাঁরা সঙ্কটে পড়েছেন। মালিকপক্ষ রাজ্যকে লিখিতভাবে জানালে শ্রমদপ্তর কেন্দ্রের কাছে এনিয়ে তদ্বির করবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও শ্রমিক সংগঠনগুলি এতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। এআইটিইউসি’র দেবাশিস দত্ত ও সিটুর অনাদি সাহুরা বলেছেন, মালিকপক্ষ গত দেড় বছর ধরে ত্রিপাক্ষিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চালিয়ে গেল। ভোট এগিয়ে আসায় এতদিনে সরকারের টনক নড়েছে। আমরা সংগঠনগুলির তরফে সুপ্রিম কোর্টের ওই মামলায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে আইনি পরামর্শ নিতে শুরু করেছি