এই মুহূর্তে জেলা

যে ” বন্দে-মাতরম” ধ্বনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করেছিল , সেই ” বন্দে-মাতরম” ভবন আজ উপেক্ষিত।


সুদীপ দাস , ১৫ আগস্ট:- যে বন্দে মাতরম ধ্বনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করেছিল, সেই বন্দেমাতরম যেমন সাংবিধানিক পরিভাষায় থেকে গিয়েছে উহ্য, তেমনই বন্দে মাতরম ভবন রয়ে গিয়েছে উপেক্ষিত এটি হচ্ছে সেই সূতিকা গৃহ, যেখান থেকে জন্ম নিয়েছিল, সেই সুর যা ১৩০ কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে শিহরণ খেলে যায় তার মূর্ছনায়, “বন্দে-মাতরম”। ব্রিটিশের নিষ্ঠুর অত্যাচার, ভারতবাসী যখন পরাধীনতার গ্লানিতে জর্জরিত, তখন এই গৃহে বসেই, রচিত হয়েছিল বন্দে-মাতরম বঙ্কিম বাবুর কলম থেকে। আর তার পরই, সেই বন্দে-মাতরম ধ্বনি আসমুদ্র হিলাচল ভারতবাসীর কণ্ঠে বেজে উঠেছিল ব্রিটিশের বিরুদ্ধে। এটি হচ্ছে সেই পবিত্র গৃহ, যেখান থেকে “বন্দে-মাতরম”, এই শব্দটি ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতবাসীর হৃদয়ে। আর এখন সেটি আমাদের রাষ্ট্র গানে পরিণত হয়েছে। একটা সময় চুঁচুড়া জোড়াঘাট স্থিত এই গৃহটি, জরাজীর্ণ থেকে ধ্বংসস্তূপের পথে এগিয়ে চলেছিল।

ভুলতে বসেছিল ক্ষমতার অলিন্দে থাকা রাজনৈতিক নেতারা। আর তখনই এই সূতিকা গৃহটিকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে, চুঁচুড়াবাসী সোচ্চার হয়েছিল রক্ষার জন্য। টনক নড়েছিল লোকসভার অন্দরে থাকা রাজনৈতিক নেতাদের, এবং তারপরই অর্থ মঞ্জুর হয়েছিল এটির সংস্কারে। চুঁচুড়া পুরসভা সেটির দায়িত্ব নিয়ে ভবনটি সংস্কার করে তোলা হয়। হেরিটেজের ও তকমা মেলে এটির, ভবনটির সামনে বঙ্কিম বাবুর আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করা হয়। সাহিত্যিক-কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর হাত দিয়ে দ্বারউদঘাটন হয় বঙ্কিম বাবুর এই বন্দে-মাতরম ভবনটির। সেদিন মঞ্চে উঠে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নেতারা, বন্দে-মাতরম ভবনটি তরুণ প্রজন্মের কাছে আর্ট গ্যালারি হিসাবে তুলে ধরা হবে। যেখান থেকে তারা জানতে পারবে স্বাধীনতার ইতিহাস, এবং দেখতে পাবে বন্দে-মাতরম রচনার কক্ষটি পর্যন্ত। দুর্ভাগ্য সেদিনের সেই পতিশ্রুতি বাতাসে মিলিয়ে গেছে। সংস্কার হওয়ার দরুন গৃহটি আজও রয়েছে দাঁড়িয়ে।

ভিতরে বঙ্কিম বাবু সহ কয়েকটি সাধারণ মানের ছবি টাঙিয়েই এবং একটি আরাম কেদার (যেটি কার ব্যাবহার করা, জানা যায়নি) রাখা রয়েছে নিভৃতে, নীরবে। আর সন্ধ্যার পর,গঙ্গার ধরে এই বন্দে-মাতরম গৃহের পাশেই বসে- মদ, গাঁজার আড্ডা। তাই চুঁচুড়াবাসীর কাছে, আজও আক্ষেপ রয়ে গেছে বন্দে-মাতরম ভবনটি নিয়ে। কি কারণে,আজও কেন অবজ্ঞার শিকার হয়েছে?, কেন পতিশ্রুতি পালন হয়নি, কেন এমন একটি পীঠস্থানকে দস্ট্রব্য স্থানে তুলে ধরা হয়নি, এই প্রশ্নগুলোই তারা বারবার তুলে ধরেছেন। অথচ স্বাধীনতা হয়েছে ৭৩ বছর আগে। যদিও পৌর প্রশাসক, তিনি জানিয়েছেন আর্ট গ্যালারির বিষয়টি তারা প্রস্তাব দিয়েছিলেন তথ্য দফতরের কাছে। তাদের তরফ থেকে পর্যবেক্ষণও হয়েছিল, কিন্তু তারপর এখনো পর্যন্ত কোনো সদুত্তর আসেনি। তবে, তারা যেটা বলেছেন, সেটি তারা করবেন ধীরে ধীরে। কত ধীরে! ঘটবে সেটি অবশ্য, বন্দে-মাতরম গৃহের অন্তরেই থেকে গেছে।