স্পোর্টস ডেস্ক,১০ মে:- কাঁধে খাবারের বস্তা চাপিয়ে রুক্ষ ও পাথুরে জমির উপর দিয়ে হেঁটে চলেছেন। দুর্গম এলাকায় অসহায় মানুষদের তিনি পায়ে হেঁটে ত্রাণ বিলি করছেন। ভিডিও বা ছবিটা ভালো করে দেখলে বুঝতে পারবেন কার কথা বলা হচ্ছে। তিনি হলেন জনপ্রিয় প্রাক্তন পাক ক্রিকেটার শাহিদ আফ্রিদি। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই যে তিনি দেশের একদা অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের সাংবাদিক সাজ সাদিক এই ভিডিয়োটি পোস্ট করেছেন। ভিডিয়োর ক্যাপশনে সাজ সাদিক লিখেছেন, “কিংবদন্তি বক্সার মহম্মদ আলি বলেছিলেন, এই পৃথিবীতে অন্যকে সেবা করার মাধ্যমে নিজের থাকার ভাড়া মেটাতে হয়। মহম্মদ আলির বলা কথাগুলোই যেন অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন শাহিদ আফ্রিদি। কে বলবে তিনি একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। করোনা আবহে দুঃস্থদের সাহায্য করার জন্য তিনি একেবারে মাঠে নেমে কাজ করছেন।”
করোনা সংক্রমণে পাকিস্তানের জেরবার অবস্থা। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আর এমন দুঃসময়ে দেশের মানুষের জন্য যথা সম্ভব সাহায্যের চেষ্টা করছেন আফ্রিদি। বেলুচিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চল লাসবেলায় ত্রাণ বিলি করলেন আফ্রিদি। তাও কারও হাত দিয়ে নয়। একেবারে নিজের হাতে। নিজে কাঁধে চাপিয়ে খাবারের বস্তা নিয়ে গেলেন দুঃস্থ মানুষদের কাছে। তারপর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেই ত্রাণ বিলি করলেন। এর আগেও আফ্রিদি ফাউন্ডেশন—এর তরফে দুঃস্থ মানুষদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আফ্রিদি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রাণ বিলির কাজ তদারকি করেছেন।অন্যদিকে করোনা পরিস্থিতিতে দুঃস্থদের পাশে দাঁড়াতে নিজের ব্যাট নিলামে তুললেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান আজহার আলি।
পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন আজহার নিজের একটি ব্যাট ও জার্সি নিলামে তুলেছিলেন। ব্যাট ও জার্সি বিক্রি করে যে অর্থ হাতে আসবে তিনি সেটি করোনায় আক্রান্তদের জন্য অনুদান দেবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। ব্যাট ও জার্সি বাবদ আজহার আলি মোট ২২ লাখ টাকা তুলতে পেরেছেন। তাও করোনা পরিস্থিতিতে বিভেদ ভুলে পাক ক্রিকেটারকে সাহায্য করতে সেই ব্যাট কিনল ভারতের সংগ্রহশালা। পুণের একটি সংগ্রহশালা যার নাম ব্লেডস অফ গ্লোরি ক্রিকেট মিউজিয়াম। তারাই আজহার আলির এই ব্যাট কিনেছে ১০ লাখ টাকায়। ওই ব্যাট দিয়ে আজহার আলি ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্টে ৩০২ রান করেছিলেন। আর ক্যালফোর্নিয়ায় বসবাসকারী একজন পাকিস্তানি তাঁর জার্সিটি কিনেছেন বলে জানিয়েছেন আজহার। তিনি জার্সিটি কিনেছেন ১১ লাখ টাকায়। এছাড়া নিউ জার্সিতে বসবাসকারী একজন পাকিস্তানি তাঁকে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন।






