এই মুহূর্তে জেলা

চৈত্র সংক্রান্তির সেলে নিজেদের বেচে দিয়েছে কমিশন, শ্রীরামপুরে মমতা।

হুগলি, ৮ এপ্রিল:- চৈত্র সেলের মতো সব কিছু বেচে দেওয়া হচ্ছে। মানুষ বিচার পাচ্ছে না এসআইআরের নামে বাংলার সাধারণ মানুষের তাদের ভোট অধিকার কেড়ে নিচ্ছে বিজেপি, আর তা থেকে বাঁচার একমাত্র পথ হলো জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করা। তাই সকলকে সকলকে জোট বাঁধতে হবে। তবেই বাংলা বাঁচবে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীরামপুরের প্রফুল্ল চন্দ্র স্টেডিয়ামে শ্রীরামপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ এবং চাঁপদানি কেন্দ্রের প্রার্থী অরিন্দম গুইনের সমর্থনে এক জনসভা থেকে বাংলার মানুষকে এভাবেই সতর্ক করলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এক ঘন্টা বক্তৃতায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের উপর ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন এসআইআর করে যেভাবে কেন্দ্রের জমিদাররা এ রাজ্যের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ভোট অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন। বিজেপি নির্বাচনে নিশ্চিত হারবে জেনেও ব্যাকডোর দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে যে ষড়যন্ত্র করেছে তা বাংলার মানুষ কখনোই মানবে না। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব। দরকার হলে আবার মামলা করব। নির্লজ্জ ভাবে মুর্শিদাবাদ, মালদা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনার লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম কেটে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এখন তড়িঘড়ি করে এসআইআরের দোহাই দিয়ে নাম কাটা হচ্ছে। তাই যদি হয় তাহলে ২০২৪ সালে এই ভোটার লিস্ট দিয়ে সারা দেশের যে নির্বাচন হলো তাতে এই লিস্টেই জমিদাররা নির্বাচিত হয়েছেন। তারা কেন এখন ক্ষমতায় থাকবে, কেন তারা পদত্যাগ করবে না। প্রশ্ন করেন বলেন যেভাবে অনুপ্রবেশ ঘুষ পেটিয়ার দোহাই দিয়ে ষড়যন্ত্র করেছিল তাতে আরও অনেক বেশি লোকের নাম কাটা যেত কিন্তু আমি নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এর বিরুদ্ধে সওয়াল করি তার জন্যেই কিছুটা হলেও ভোট রক্ষা হয়েছে। তার জিজ্ঞাসা, কি করে দেশে অনুপ্রবেশ ঘটছে, সীমান্ত বা বর্ডারে কারা পাহারা দেয়। তোমাদের বিএসএফ রয়েছে, সিআরপিএফ রয়েছে সিআইএসএফ রয়েছে তাহলে তোমরা কি করছো? আসামে এনআরসি করে কয়েক লক্ষ মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়েছ, বাংলায় এই ধরনের অপচেষ্টা হতে দেব না। এর সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এ রাজ্যের মা মাটি মানুষের গত ১৫ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তার ফিরিস্তি দিয়ে বলেন এই হুগলি জেলার জগন্নাথ মন্দির, রাধাবল্লব মন্দিরের সংস্কার, চন্দননগরের আলো হাব, ফুরফুরা শরীফ ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, তারকেশ্বর ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, শ্রীরামপুরের সিল্ক হাব সবই আমরা করে দিয়েছি।

১৫০০ কোটি টাকা খরচ করে উত্তরপাড়ায় পরিশুদ্ধ পানীয় জল প্রকল্প তৈরি করেছি।চন্দননগরের বিশ্ব বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী কার্নিভালের আদলে আমি দুর্গাপুজোর কার্নিভাল চালু করেছি। তা কলকাতায় যেমন হয়ে তার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি জেলায় হচ্ছে। দুর্গাপুজোয় প্রতিটি পুজো কমিটিকে যে অনুদান দিই তা জারি থাকবে। অন্যদিকে বিজেপি এলআইসি, কোল ইন্ডিয়া, সেল, ব্যাংক, সবকিছু বেছে দিচ্ছে। দেশকে শেষ করে দেবার ষড়যন্ত্র করছে। এদিনের অনুষ্ঠানে এদিনের জনসভায় উপস্থিত মহিলাদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনাদের লক্ষী ভান্ডার সহ সমস্ত রকম প্রকল্প। তা কখনো বন্ধ হবে না চিরদিনই চলবে উচ্ছ্বসিত মহিলারা জয় বাংলা ধ্বনি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও এদিনের এই জনসভায় জোরালো বক্তব্য রাখেন শ্রীরামপুরের সংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর জনসভাকে ঘিরে মঙ্গলবার থেকে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী এদিনে নিরাপত্তার কাজে ব্যস্ত ছিলেন।