এই মুহূর্তে কলকাতা

হিন্দমোটরেই হতে চলেছে রাজ্যের বৃহত্তম জল প্রকল্প- ফিরহাদ।


কলকাতা, ২৪ জানুয়ারি:- বৃহত্তর কলকাতার ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়ে চলা পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে রাজ্য সরকার নতুন জল শোধনাগার তৈরির কাজে হাত দিচ্ছে। কলকাতার উপকন্ঠে হুগলি জেলার উত্তরপাড়া-কোতরং পুরসভার হিন্দমোটর এলাকায় ১৭৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্যের বৃহত্তম জল শোধানাগার গড়ে উঠতে চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। এই পানীয় জল প্রকল্প গড়ে উঠলে ৭টি পুরসভা এবং ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। এই প্রকল্পটি গড়ে উঠলে সেখানে প্রতিদিন ৫৫ গ্যালন জল পরিশুদ্ধ করা যাবে।। জানা গিয়েছে, হিন্দমোটর এলাকায় যেখানে একটি ফিল্ম সিটি গড়ে তোলার জন্য জমি বাছা হয়েছিল সেখানেই এই জল শোধনাগার গড়ে উঠবে। এই প্রকল্পটি টালা ট্যাঙ্কের ৬ গুণেরও বেশি জল ধারণ করতে পারবে। টালায় এখন ৯ মিলিয়ন গ্যালন জল ধরে রাখার ব্যবস্থা আছে। হিন্দমোটরে প্রস্তাবিত শোধনাগারে ৫৫ মিলিয়ন জল ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উত্তরপাড়া- কোতরং, কোন্নগর, রিষড়া, শ্রীরামপুর, বৈদ্যবাটি, চাঁপদানি ও ডানকুনি পুরসভা সহ আশেপাশের আরও ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য ৬০টি ওভারহেড ও ৭টি ভূগর্ভস্থ জলাধার গড়ে তোলা হচ্ছে। সেই কাজ ২০১৯ সালেই শুরু হয়ে গিয়েছে। গঙ্গা থেকে জল তুলে তা হিন্দমোটরের শোধনাগারে টেনে আনতে নদীতে একটি ইনটেক জেটি স্থাপন করা হয়েছে। বসানো হচ্ছে পাইপ লাইনও।

এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ওকে চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, ‘টালা ও পলতা বেওশ পুরাতন। তবে হিন্দমোটরের প্রকল্পই রাজ্যের মধ্যে সব থেকে বৃহত্তম প্রকল্প হতে চলেছে। সবচেয়ে বড় জল শোধনাগার হতে চলেছে হতে চলেছে সেটি। রোজ ৫৫ গ্যালন জল সেখানে পরিশোধন করা যাবে। স্থানীয় পুরসভাগুলি এই প্রকল্প গড়ে তুলতে বা তার রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে না বলে আগেই জানিয়েছিল। কিন্তু মানুষ যাতে পানীয় জল থেকে বঞ্চিত না থাকেন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কে এম ডি এ এই প্রকল্প গড়ে তুলছে এবং প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ করবে। প্রায় ১৮০০ কোটি টাকা খরচ করে এই প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। এই প্রকল্প পূর্ণ মাত্রায় চালু হলে ২০ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে। এখান থেকে পরবর্তীকালে পাইপের মাধ্যমে আমরা উত্তর কলকাতা ও ব্যারাকপুর মহকুমাতেও জল নিয়ে যেতে পারবো। জল শোধনাগারের পাশে আমকা একটা ইকো পার্কও গড়ে তুলছি।’