এই মুহূর্তে জেলা

শ্যামল বরণ রামের দেখা মেলে হুগলির গুপ্তিপাড়ায়।নিত্য পুজোতে হয় রামচন্দ্রের আরাধনা।


হুগলি, ২১ জানুয়ারি:- গুপ্তিপাড়ার রাম মন্দিরে অধিষ্ঠিত শ্রী রাম চন্দ্র সীতা ও লক্ষ্মণ।রামের গায়ের রঙ সবুজ হলেও সীতা আর লক্ষ্মণ এখানে অশতি পুষ্প রঙের। তাদের সামনে কালো রঙের হনুমান। নিম কাঠের তৈরী এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন রাজা হরিশচন্দ্র রায়। অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে গুপ্তিপাড়ায় বৃন্দাবন চন্দ্র জিউ মঠ তৈরী হয়। সেই মঠের চৌহদ্দিতে রয়েছে বৃন্দাবন জিউ এর মন্দির, কৃষ্ণের মন্দির, রাম চন্দ্রের মন্দির ও নিতাই গৌরের মন্দির বা জোরা বাংলো। রামের মন্দির টেরাকোটার। সেখানেই নিত্য পুজো হয় সারা বছর। রামনবমীতে আগে উৎসব হত এখন নমনম করে সারা হয় পুজো।তবে বৃন্দাবন জিউ এর জগন্নাথের রথযাত্রা হয় সবচেয়ে ধুমধাম করে। হাজার হাজার ভক্তের সমাগম হয়। ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ এই মন্দির গুলির দেখভাল করে। মন্দিরের কমিটির সদস্য সামন্তক গাঙ্গুলী জানান, পাঁচশ বছর পর অযোধ্যায় রামলালা প্রতিষ্ঠা হবে আমরা খুশি।গুপ্তিপাড়ার রাম মন্দিরে ভক্তরা আসবেন পুজো দেবেন পুরোহিত থাকবেন সারাদিন।

রাথযাত্রা ও ভান্ডার লুট বৃন্দাবন জিউ এর বড় উৎসব। গোটা বছরই এই মন্দিরে অগনিত ভক্ত আসেন। রামলালা প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে আলদা করে কোনো ব্যবস্থা হবে না। তবে কেউ পুজো দিতে চাইলে দিতে পারবেন। পুরোহিত শিববেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, চার মন্দিরে নিত্য সেবা হয়। প্রাচীন মূর্তি রয়েছে। আগে রামচন্দ্রের পুজো হত আলাদা করে।এখন সেসব হয়না। লোকবল কম থাকায় রামচন্দ্রকে নিয়ে আলাদা করে উন্মাদনা হয়না। গুপ্তিপাড়াতেই পাটমহলে রয়েছে রঘুনাথ জিউ মন্দির।যেখানে রাম সীতা লক্ষ্মণের মূর্তি পুজো হয়। রামানন্দ অধিকারী ১৬ শো খ্রীস্টাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭ শো খ্রীষ্টাব্দে ভাগীরথীর গতি পথ পরিবর্তনে মন্দির ধ্বংস হয়ে যায়। পরে সেই মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে এসে দূর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান মন্দিরটি করেন। সেখাই রামের পুজো হয়। রামনবমী উপলক্ষে মেলা বসে। বেনীমাধব শীলের পঞ্জিকায় পাট মোহলের রামনবমর উল্লেখ আছে। আগামী কাল রাম জন্মভূমিতে হবে রামলালার প্রতিষ্ঠা তবে তার জন্য অবশ্য আলাদা কিছু হবে না। নিত্য পুজো যেমন হয় তেমনই হবে জানান এই রাম চন্দ্রের পুজোয় যুক্তরা।