এই মুহূর্তে কলকাতা

সিন্ডিকেট বৈঠকের পর রাজ্যপালের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত আরো চরমে।


কলকাতা, ১৫ ডিসেম্বর:- রাজভবনের অনুমতি নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বৈঠক করার পর রাজ্যপালের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত আরও তুঙ্গে উঠল। রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অন্তর্বর্তী উপাচার্যরাও সিন্ডিকেট, সেনেট, কোর্টের বৈঠক ডাকতে পারেন। রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দফতর অবশ্য পাল্টা দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী উপাচার্যদের এই বৈঠক ডাকার ক্ষমতা নেই। উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমতি ছাড়া এই ধরনের বৈঠক ওই উপাচার্যরা ডাকতে পারেন না। এর আগে যাদবপুর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট এবং সিন্ডিকেট বৈঠক ডাকতে উচ্চশিক্ষা দফতর নিষেধ করেছিল দুই অস্থায়ী উপাচার্যকে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তার জন্য কোর্টের বৈঠক ডাকেনি। কিন্তু উচ্চশিক্ষা দফতরের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মঙ্গলবার রাজ্যপালের অনুমতি সাপেক্ষে সিন্ডিকেট বৈঠক করে।শুক্রবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তৃণমূলের বিক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্যপাল। তিনি পৌঁছনোর আগেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা হাতে কালো পতাকা এবং পোস্টার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের সামনে জড়ো হন।

স্লোগান ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ মানছি না, শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী রাজ্যপাল দূর হটো ইত্যাদি। রাজভবন সম্প্রতি জানিয়েছে, ১৯৭৯ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইন মোতাবেক স্থায়ী এবং অন্তর্বর্তী উপাচার্যরা সেনেট, সিন্ডিকেট, কর্মসমিতি, কোর্টের বৈঠক ডাকতে পারেন। রাজভবন অন্তর্বর্তী উপাচার্যদের এক চিঠিতে বলেছে, আচার্য তথা রাজ্যপাল ১৯৭৯ সালের আইন অনুযায়ী কোর্ট কিংবা সেনেটের বৈঠকে পৌরোহিত্য করতে পারেন। না হলে উপাচার্যদের বৈঠক ডাকার অনুমতি দিতে পারেন রাজ্যপাল। উচ্চশিক্ষা দফতর অবশ্য রাজভবনের এই যুক্তি মানতে নারাজ। ওই দফতরের বক্তব্য, রাজভবন যা বলছে, তা কেবল স্থায়ী উপাচার্যদের ক্ষেত্রে কার্যকর। তাদের অনুমতি ছাড়া বৈঠক করলে সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সমস্যায় পড়তে পারেন অন্তর্বর্তী উপাচার্যরা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় মঙ্গলবার সিন্ডিকেট বৈঠক করেছে। তাতে ক্ষুব্ধ উচ্চশিক্ষা দফতর। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা দফতরের নিষেধ মেনেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকেনি। কর্মসমিতির বৈঠক না হওয়ায় সমাবর্তন নিয়ে কর্তৃপক্ষ কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। বৃহস্পতিবারই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জুটা সমাবর্তন চেয়ে রাজ্যপালকে চিঠি দিয়েছে।