এই মুহূর্তে জেলা

কুলিয়া সেতুর কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা পূর্তমন্ত্রীর, তৈরির ব্যয় প্রায় ২৯ কোটি টাকা।

হাওড়া, ১ এপ্রিল:- কুলিয়া সেতুর কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। ২ বছরের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হলেও দেড় বছরের মধ্যেই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে আশাবাদী মন্ত্রী। সেতু তৈরিতে ব্যয় হবে প্রায় ২৯ কোটি টাকা।দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া জেলার দ্বীপাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ভাটোরা, ঘোড়াবেড়িয়া ও চিৎনান অঞ্চলের মানুষের দাবি ছিল মুন্ডেশ্বরী নদীর উপর একটি পাকাপোক্ত সেতু তৈরি হোক। বাম আমলেও একবার এর শিলান্যাস হয়েছিল। কিন্তু সেতু আর তৈরি হয়নি। অবশেষে কুলিয়া সেতু তৈরিতে উদ্যোগ নেয় বর্তমান রাজ্য সরকার। জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্যের পূর্ত দপ্তর এই সেতু তৈরি করছে। এই সেতু তৈরি করতে খরচ পড়বে আনুমানিক ২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিন কোটি টাকা ব্যয় হবে জমি কেনার জন্য। এবং বাকি ২৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে ব্রিজ তৈরির জন্য এবং রাস্তা তৈরির জন্য। শনিবার সকালে এক অনুষ্ঠানে এই সেতুর কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্ত দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে এই সেতু তৈরি হতে চলেছে। আগামী দু’বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

তবে আশা করা হচ্ছে তার আগেই দেড় বছরের মধ্যে এই কাজটি সম্পূর্ণ হবে। এই সেতু চওড়ায় প্রায় ১০ মিটার এবং নদীর উপরে দৈর্ঘ্যে হবে প্রায় দেড়শ মিটার। এলাকার মানুষের এটি খুবই প্রয়োজনে আসবে। বিধায়ক সুকান্ত পাল বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এই সেতু তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। এটি পাকা সেতু হবে। বড় সেতুর সঙ্গে অ্যাপ্রোচ রাস্তা হবে। শুধু আমাদের দ্বীপ অঞ্চল নয় এই সেতু তৈরি হলে হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন। এই সেতু দিয়ে কম সময়ে মানুষ কলকাতায় পৌঁছোতে পারবেন। ইতিমধ্যেই রাস্তা সম্প্রসারণের ব্যপারে পঞ্চায়েতের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিপিআর জমা দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্তমন্ত্রী পুলক রায় এদিন সাংবাদিকদের বলেন, চাহিদা এবং প্রয়োজন অনুসারে তৈরি হচ্ছে এই এই সেতু। এটি তৈরি করতে খরচ হছে ২৯ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা খরচ হবে জমি কেনার জন্য। বাকি ২৬ কোটি টাকা ব্রিজ তৈরির জন্য। এই ব্রিজটি চওড়া হবে ১০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য হবে নদীর উপর ১৫০ মিটার। বাকি দু’দিকে রাস্তা হবে।

কাজ শেষ করতে ২ বছর সময় নেওয়া হয়েছে। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার এবং যাঁদের এই কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে তাঁদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে মানুষের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করে দেড় বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ করা হবে। যেহেতু দ্বীপ অঞ্চল সেহেতু প্রশাসন, মানুষের যাতায়াতে সমস্যা হত। ওই দ্বীপ অঞ্চলের মানুষরা যাতে মুল ভুখন্ডে যেতে পারেন সেই কারণেই এই ব্যবস্থা। এই সেতু তৈরি হলে এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। আগের সরকারের মন্ত্রী এখানে শিলান্যাস করেছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এতেই বোঝা যায় ৩৪ বছরের বিগত সরকার মানুষকে মানুষকে ধোঁকা দিত। বর্তমান সরকার মানুষকে ধোঁকা দেয়না। স্থানীয় বাসিন্দা আশাবুল হোসেন জানান, বিগত দিনে যাঁরা এসেছেন তাঁরা শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। শিলান্যাস করেছে কিন্তু কাজ কিছু হয়নি। যদি এই সেতুটি হয় তাহলে এই এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। এখানে বর্ষার সময় ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়। ওই সময় ঘরবাড়ি ডুবে যায়। কিন্তু আসা যাওয়ার পথ সব বন্ধ হয়ে যায়। খুব কষ্ট করে থাকতে হয়। বারেবারে শিলান্যাস হয়েছে। এই সেতু তৈরি হলে তাহলে খুব ভাল হবে।