এই মুহূর্তে জেলা

সুভাষ দত্তের চিঠি মমতাকে।


হাওড়া, ২৪ মার্চ:- শহরের ভেঙে পড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন রাজ্যের বিশিষ্ট পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত। সুভাষবাবুর অভিযোগ, বর্তমানে হাওড়া শহরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। কোনও প্রকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ শহরে রয়েছে বলে তাঁর মনে হয় না। তাঁর মতে এটা নিছক কেবল পুলিশি ব্যর্থতা নয়। যান যানচলাচল বিষয়ে শহরে সমস্ত প্রকার প্রতিবন্ধকতা আর জাঁকিয়ে বসেছে। সরকারি প্রশাসন যন্ত্র এই বিষয়ে উদাসীন বলেই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আজ ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে যে বিষয়গুলি যত্ন সহকারে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন সুভাষবাবু সেগুলি হল, বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী কলকাতা শহরের রাস্তাঘাটের পরিমাণ শতকরা মাত্র ৫ ভাগ। অথচ হাওড়ার উপর অনুরূপ কোনো তথ্য নেই।

অনুমান করতে অসুবিধা হয় না যে অপরিকল্পিত প্রায় ৫৪০ বছরের পুরনো এই হাওড়া শহরের রাস্তাঘাটের পরিমাণ শতকরা ৩ ভাগেরও কম। শহরের স্বল্প পরিসর রাস্তার বেশিরভাগই এখন বেহাত হয়ে পড়েছে। এছাড়া হাওড়া শহরের ধারে রাস্তার ধারে জি টি রোড এর কিছু অংশ ছাড়া ফুটপাত প্রায় নেই বললেই চলে। তার উপর রাস্তায় হকাররা বসে পড়েছে। পথচলতি মানুষ রাস্তায় হাঁটছেন। গাড়ি চলার পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমানে বড় রাস্তাগুলোতে হাজার হাজার টোটো অটোকে পারমিট দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে। অটো চলার কথা কন্টাক্ট ক্যারিং পারমিটের ভিত্তিতে অর্থাৎ ট্যাক্সি, ওলা, উবের যেভাবে পরিষেবা দেয় তেমনি অটো চলার কথা। কিন্তু অটোগুলো সমস্ত বড় রাস্তার উপরে তাদের টার্মিনাল পয়েন্ট বানিয়ে ফেলেছে।

এভাবে রাস্তা বেদখল হয়ে পড়ছে বলে সুভাষবাবুর অভিযোগ। এছাড়া ই রিকসা যার ব্যবহারিক নাম টোটো, যেগুলো বড় রাস্তায় চলাচল করার কথা নয়, কিন্তু হাজারে-হাজারে টোটোর পারমিট দেওয়া হচ্ছে এবং সমস্ত টোটো বড় রাস্তাগুলোর দু’ধারে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক ক্রসিংগুলো একেবারে জ্যাম করে রাখছে। রাস্তার দু’ধারে মোটরবাইক বা অন্য যানবাহন অহরহ পার্কিং অবস্থায় থাকছে। শহরের কোনও পার্কিং নিয়মবিধি আছে বলে মনে হচ্ছে না। শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যবস্থা পর্যাপ্ত এবং সঠিক নয়। অফিস টাইমে নিয়ন্ত্রণ একেবারেই ঠিক থাকেনা। কলকাতা পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অনেক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকে। সেই কারণে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে কলকাতা পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে হাওড়া শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার এবং কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ওদের হাতেই তুলে দেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।