এই মুহূর্তে কলকাতা

পুরোহিত ভাতাতেও দুর্নীতি ! তালিকায় সাহা , ঘোষ , বিশ্বাসদের নাম


কলকাতা , ১৪ অক্টোবর:- আমফানের ক্ষতিপূরণ দুর্নীতি নিয়ে এখনও ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল। ক্ষতিপূরণ নিয়ে মুপ পোড়ায় দলকে সংযত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেও এবার পুরোহিত ভাতার তালিকাতেও ধরা পড়ল একই রকম দুর্নীতি।নদীয়া থেকে আরম্ভ করে দক্ষিণ ২৪ পরগণা পুরোহিত বাতার তালিকায় শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের নাম জ্বলজ্বল করছে বলে অভিয়োগ। এমনকি প্রাপকদের তালিকায় রয়েছেন সাহা, ঘোষ, বিশ্বাস পদবিধরীরাও ! বিরোধীদের অভিযোগ তৃমমূল কংগ্রেস দলে দুর্নীতি আর স্বজন পোষণ এমন যায়গায় পৌঁছেছে যে উপরমহলের নির্দেশ পালন তো দূরস্থান, সামান্য অর্থের লোভও কিছুতেই ছাড়তে পারছেন না স্থানীয় নেতারা। নদিয়ার তেহট্টে পুরোহিত ভাতার তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েচে। অভিযোগ, প্রকৃত পুরোহিতদের নাম না থাকলেও সেখানে পুরোহিত ভাতার তালিকায় নাম রয়েছে তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্যের স্বামী নিলয় সাহার।

এই নিয়ে বিডিওর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন পুরোহিতরা। তেহট্টের পুরোহিতদের অভিযোগ, তালিকায় বহু পুরনো মন্দিরের পুরোহিতদের নাম না থাকলেও নাম রয়েছে জেলা পরিষদ সদস্য টিনা সাহার স্বামী নিলয় সাহার। এছাড়া তালিকায় ঘোষ, সরকার, বিশ্বাস পদবির ব্যক্তিদেরও নাম রয়েছে। যারা কখনো পুরোহিত হতে পারে না বলে দাবি স্থানীয় পুরোহিত সংগঠনের। তেহট্ট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অচ্যূতানন্দ পাঠক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের কাছে নথি চেয়ে পাঠানো হয়েছে। নথি পরীক্ষা করে যোগ্য ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হবে। অস্বস্তির মুখে দায় এড়াতে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ এনেছেন তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্যে টিনা সাহা। তাঁর দাবি, ‘দলেরই কেউ চক্রান্ত করে আমার স্বামীর নাম তালিকায় ঢুকিয়েছে।

আমরা ব্রাহ্মণ নই। তালিকায় আমার স্বামীর নাম থাকার কথা নয়। এই নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাবো।’ একই রকমের অভিয়োগ এসেছে দক্ষিণ ২৪ পরগণার জয়নগর থেকেও। অভিযোগ, এলাকার বহু প্রাচীণ মন্দিরের পূজারিদের নাম তালিকায় না থাকলেও নাম রয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের। অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস। সোমবার স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জয়নগরে পুরোহিত ভাতা প্রাপকের ২১ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। তাতে পৌরহিত্যের সঙ্গে যুক্ত নন এমন বেশ কয়েকজন শাসকঘনিষ্ঠের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জয়নগর – মজিলপুর পুরসভার প্রশাসক তথা কংগ্রেস নেতা সুজিত সরখেলের অভিযোগ, ‘যে জয়চণ্ডীর নামে জয়নগরের নামকরণ, সেই মন্দিরের পুরোহিতের নাম তালিকায় নেই।

অথচ নাম রয়েছে বহু তৃণমূল ঘনিষ্ঠের।’ বিধায়কের মদতে শাসকদল নিজের লোকেদের পাইয়ে দিতে এই তালিকা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বজনপোষণের চেষ্টাকে এবারও ভুল বলে চালানোর চেষ্টা করেছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘স্বজনপোষণ হয়নি। তবে এটা ঠিক যে তালিকায় ভুল রয়েছে। এমন অনেকের নাম রয়েছে যারা জীবনে পৌরহিত্য করেননি। তালিকা সংশোধন হবে।’ গত মাসে পশ্চিমবঙ্গে ৮,০০০ পুরোহিতকে মাসে ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্প আসলে দলের কেষ্টবিষ্টুদের পাইয়ে দেওয়ার অরেক প্রকল্প বলে সেদিনই অভিযোগ করেছিল বিজেপি। পুরোহিত ভাতার প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ হতেই দেখা গেল একেবারে মিথ্যা নয় সেই অভিযোগ।