হাওড়া,৪ ফেব্রুয়ারি:- এক তরুণীকে ঘরে হাত পা বেঁধে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দায়। অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তরুণীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঘরের দরজায় তালাচাবি মেরে ওই যুবক বাইরে বেরিয়ে গেলে কোনওভাবে বাঁধন খুলে দোতলা ঘরের গ্রিলহীন জানলা দিয়ে নিচে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে গুরুতর যখম হন ওই তরুণী। অভিযোগ, বেলুড় চাঁদমারি নেতাজিনগর এলাকায় একটি বাড়ির দোতলার ভাড়া ঘরে ওই তরুণীকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন পেশায় মার্বেল সেটিং মিস্ত্রি সুবীর মাইতি নামের ওই যুবক। তারই সহকারী হিসেবে কাজ করতেন ওই তরুণী। তবে, ওই ঘরে কি উদ্দেশ্য ওই তরুণীকে ডেকে নিয়ে এসে হাত পা বেঁধে আটকে রাখা হয়েছিল তা নিয়েই তৈরি হয়েছে রহস্য।
তরুণীকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা জখম তরুণীর অভিযোগ পেয়ে পুলিশ সোমবার রাতেই গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত যুবক ও তার এক আত্মীয়কে । স্থানীয় সূত্রের খবর, গত দু’বছর ধরে স্থানীয় একটি বাড়িতে দোতলা বাড়ির উপরের তলায় একটি ঘর নিয়ে ভাড়া থাকেন অভিযুক্ত সুবীর। তার স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে কিছুদিন আগে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন তিনি। এরপর সোমবার বাড়ির মালকিন ও তাঁর ছেলে বৌমা বাড়িতে না থাকার সময় ওই তরুণীকে ডেকে পাঠান সুবীর। এরপর তরুণীর উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, সোমবার দুপুর নাগাদ ওই তরুণীকে বাড়ির পাশের গলিতে আছড়ে পড়ার শব্দ পান অনেকেই। এরপর কোনওরকমে গলি থেকে উঠে এসে রাস্তায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করেন তরুণী। তা শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই টোটো ডেকে যখম তরুণীকে বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসার জন্য। খবর দেওয়া হয় নিশ্চিন্দা থানায়। ছুটে আসেন পুলিশ আধিকারিকরা। তরুণীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিশ এদিনই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তার এক নাবালক আত্মীয়কেও আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ।




