এই মুহূর্তে জেলা

টুসুতে মন্দা, তবুও রুজির টানে ৪০ বছর ধরে টুসু করছেন অনীল – অলকা ।

 

পশ্চিম মেদিনীপুর,১৪ জানুয়ারি:-  টুসু মন্দা। তবুও রুজির টানের দীর্ঘ ৪০ বৎসর ধরে টুসু বিক্রি করে চলেছেন অনীল আর অলকা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গোয়ালতোড়ের মাইলিসাই এর বাসিন্দা ষাটোর্ধ অনীল চালক ও তার স্ত্রী অলকা চালক। হতদরিদ্র পরিবারে স্ত্রী আর তিন নাতনী কে নিয়ে সংসার অনীলের। ছোটো বেলা থেকেই মাটির কাজের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। সেজন্য ফাঁকা সময় পেলেই পুকুর পাড়ে মাটির ঢেলা নিয়ে প্রতিমা করতেন নিজের খেয়ালেই। এই জন্য মাঝে মাঝে মা বাবার বকুনিও খেতে হয়েছে। কিন্তু আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অনীলের সখ থাকলেও তা পুরণ করতে পারেন নি। বাবা মারা যাওয়ার পর বিয়ে করে সংসারের হাল ধরেন তিনি। পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রী। এরই মাঝে সরস্বতী, লক্ষী, বিশ্বকর্মা, টুসু ভাদু প্রভৃতি প্রতিমা গড়তেন টুকটাক। স্ত্রী এক ছেলে আর দুই মেয়ে নিয়ে কোনোরকমে সংসার চালিয়ে নিতেন। পরে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি পাকাপাকি ভাবে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু করেন বেশী রোজগারের আশায়। সেই সময় প্রতিমার দাম কম থাকলেও চাহিদা ছিল প্রচুর। ফলে লাভও হতো ভালো। পরে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়ে ছেলেরও বিয়ে দেন। ছেলের দুই মেয়ে হয়। কিন্তু বছর দশেক আগে ছেলে মারা যায় রোগে। তারও কিছুদিন পর পুত্রবধূ পরকিয়ার কারনে শ্বশুর শ্বাশুড়ি কে ছেড়ে অন্য একজনের সাথে পালিয়ে যায় নিজের নাবালিকা দুই মেয়েকেই ফেলে রেখে। তখন থেকেই ছেলের দুই মেয়ে আর মেয়ের এক মেয়েকে নিজেদের কাছে রেখেই মানুষ করে চলেছেন অনীল আর অলকা।

There is no slider selected or the slider was deleted.

পৌষ সংক্রান্তীতে জঙ্গলমহলে টুসুর ব্যাপক চাহিদা ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তা যেন বিলুপ্তির পথে এগিয়ে চলছে। অনীল চালক জানান, আমি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে গোয়ালতোড়ের হাটে টুসু বিক্রি করছি। কিন্তু দু তিন বছর ধরে টুসুর চাহিদা যেন কমে যাচ্ছে। গত বছর প্রায় ১০০০ এর মত টুসু করে ছিলাম কিন্তু ২০০ র মতো টুসু রয়ে গিয়েছিল। এবার সেজন্য ছোটো বড়ো মিলিয়ে ৭০০ র মতো টুসু করেছি। অর্ধেক বিক্রি হয়ে আর অর্ধেক এখনো বিক্রি হয়নি।

There is no slider selected or the slider was deleted.

কি কারনে টুসুর এমন মন্দা তা তারাও জানেন না। তবে বাজারে অন্যান্য জিনিসের মতো টুসুর দাম কিন্তু সেভাবে বাড়েনি৷ ২০, ৩০, ৫০, ১০০ টাকা মুল্যের টুসুও বিক্রি হচ্ছে না। অনীলের স্ত্রী অলকা জানান, শ্বশুর বাড়িতে আসার পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে টুসু গড়ার কাজ আরম্ভ করেছি। এই টুসু বিক্রি করেই দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি। তাই সেই টুসু গড়ার কাজ এখনো বন্ধ করিনি। জানি টুসুতে মন্দা চলছে তবুও রুজীর টানে এই ব্যাবসা করে চলেছি। শুনেছি প্রশাসনিক ভাবে এখন টুসু নিয়ে নানান কর্মশাল হচ্ছে। টুসু পুজো নিয়ে মানুষ কে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। তাই হয়তো বা আবার কোনোদিন টুসুর বাজার ফিরবে।

There is no slider selected or the slider was deleted.