হুগলি, ১৭ ফেব্রুয়ারি:- পাঁচ বছর আগে পাণ্ডুয়া থানার অন্তর্গত এলাকায় গৃহবধূ নাজরানা খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় স্বামী মহম্মদ রাজাকে দোষী সাব্যস্ত করে কড়া সাজা শোনাল আদালত। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত একাধিক ধারায় শাস্তির নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ (বধূ নির্যাতন) ধারায় অভিযুক্তকে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনা (ধারা ৩০৬) মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি পণপ্রথা বিরোধী আইনে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেল ভোগ করতে হবে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মুসলিম রীতি মেনে বিয়ে হয় নাজরানা খাতুনের সঙ্গে মহম্মদ রাজার। অভিযোগ, বিয়ের সময় পণের দাবি না থাকলেও বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় টাকা ও উপহারের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। মৃতার পরিবারের দাবি, সামর্থ্যের বাইরে গিয়েও একাধিকবার অর্থ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু অত্যাচার থামেনি। ২০২১ সালের ২৭ জুন নাজরানাকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর মৃতার বাবা পাণ্ডুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ২৬৭/২১ নম্বর মামলা রুজু করে পুলিশ। তদন্ত শেষে চার্জশিট পেশ করা হয় আদালতে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে এদিন সাজা ঘোষণা করে। রায়ের পর মৃতার পরিবার জানায়, তারা আইনের উপর আস্থা রেখেই লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল এবং অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছে। আইনজীবী মহলের মতে, এই রায় পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য হিংসার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে।




