এই মুহূর্তে জেলা

পুনর্মিলন উৎসবে এসে স্কুল বাঁচানোর অঙ্গীকার প্রাক্তনীদের।


হুগলি, ২ জানুয়ারি:- স্কুলের প্রথম পুনর্মিলন উৎসবে এসে স্কুল বাঁচানোর অঙ্গিকার প্রাক্তনীদের। পড়ুয়া কমতে কমতে সংখ্যাটা একশোর নীচে নেমেছে।যত জন ছাত্রী আছে তারাও অনিয়মিত। আগামী দিনে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় চুঁচুড়ার মিয়ারবেড় (পিয়ারাবাগান) সারদামনী গার্লস হাইস্কুল। স্কুল বাঁচাতে এগিয়ে এলেন প্রাক্তনীরা। সাহায্য চাইলেন এলাকার মানুষের। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলবেন প্রাক্তনীরা। এক সময় অন্য স্কুলের ফেল করা ছাত্রীরা টিসি নিয়ে সারদামনী স্কুলে ভর্তি হত। স্কুলের দিদিমনিদের দায়িত্ব ছিল তাদের ভালো করে পড়িয়ে মাধ্যমিক পাশ করানো।আর সেই কাজ সাফল্যের সঙ্গেই করছিলেন স্কুলের শিক্ষিকারা। সেই স্কুল থেকেই পড়াশোনা করে ডাক্তারী পড়ার সুযোগ পেয়েছে অদিতি গাইন। অদিতির কথায় দিদিমনিরা, স্কুলের পরিবেশ খুবই ভালো তাও কেন ছাত্রী আসেনা বুঝিনা। সারদামনী স্কুলের এক সময় সারে তিনশ ছাত্রী ছিল। এখন সংখ্যাটা ৯২। সেই ছাত্রীরাও নিয়মিত স্কুলে আসে না। কারা কারা স্কুলে অনুপস্থিত তা দেখে ফোন করে স্কুলে ডেকে আনা দিদিমনিদের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ডালিয়া মুখোপাধ্যায় জানান, মোবাইলে রিল বানিয়ে ক্লান্ত হয়ে পরে ছাত্রীদের একাংশ।পরদিন আর স্কুলে আসতে পারেনা।অভিভাবকদের বুঝিয়ে বলছি কিন্তু কাজ হয়না।

আমার স্কুলে বেশিরভাগ গরীব মেয়ে পরে। তাদের মধ্যেও মেধা আছে।আমরা চেষ্টা করি আলাদা করে গাইড করতে। স্কুলের প্রাক্তনীরা জানান, তারা যখন পরেছেন স্কুলের শিক্ষিকারাই সব শিখিয়ে দিতেন। আলাদা করে টিউশন নিতে হত না। প্রাক্তনী প্রতিমা সরকার ও সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় কুন্ডুরা বলেন, স্কুলের আজ প্রতিষ্ঠা দিবস।প্রথম বার আমরা স্কুলের জন্মদিনটাকে বেছে নিয়েছি পুনর্মিলনের জন্য। বর্তমান প্রাক্তনরা সবাই মিলে নানা অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারনা খাওয়া দাওয়া চলে সারাদিন।তবে স্কুলের ছাত্রী সংখ্যা কমছে দেখে খারাপ লাগছে। পুরোনো সহপাঠিদের সঙ্গে দেখা হল খুব মজা হল। দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখা পুরোনো ছবি গুলো দেখে সেই সব দিনের কথা মনে পরে যাচ্ছিল। তখন কত পড়ুয়া ছিল। দিদিমনিরা কত যত্ন নিয়ে পড়াতেন।আর আজ ছাত্রী কমছে এভাবে চললে হয়ত স্কুলটা একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আমরা চাই অভিভাবকরা স্থানীয় মানুষরা এগিয়ে আসুন স্কুল বাঁচাতে। প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ১৯৭৫ সালে স্কুল চালু হয়েছিল। ১৯৮৬ সালে মাধ্যমিক স্কুলের অনুমোদন পায়। আমি দীর্ঘদিন এই স্কুলে আছি। বাকি শিক্ষিকারা সব ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া।তাদের দিক থেকে ছাত্রীরা সব রকম সাহায্য পায়। তার পরেও ছাত্রী কমছে।অথচ শহরের অন্য স্কুলে ছাত্রী সংখ্যা উপচে পরে।আমরা চেষ্টা করছি, প্রাক্তনীরাও অঙ্গিকার করছেন।স্কুল বাঁচাতে হবে।