জেলা এই মুহূর্তে

চাঁদা তুলে স্থানীয়রাই গঙ্গা ভাঙ্গন রুখতে তৎপর গুপ্তিপাড়ায়।


হুগলি, ২৮ ডিসেম্বর:- গঙ্গার ভাঙন রাতের ঘুম কেড়েছে গুপ্তিপাড়াবাসীর। হুগলির বলাগড় বিধানসভার গুপ্তিপাড়া এক পঞ্চায়েতের ফেরিঘাট থেকে শুরু করে বর্ধমানের কালনা সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গঙ্গার এই ভাঙন বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে গুপ্তিপাড়ার সঙ্গে নদীয়ার শান্তিপুরের জলপথে যোগাযোগ রক্ষাকারী একমাত্র ফেরিঘাট ও গুপ্তিপাড়া শ্মশানঘাটকে ভাঙন থেকে বাঁচানোর জন্য স্থানীয় বাসিন্দারাও চাঁদা তুলে ১২৫ মিটার গঙ্গার পাড় বাঁধানোর কাজে প্রশাসনের সঙ্গে হাত লাগিয়েছে। তবে কতটা ভাঙন রোধ করা যাবে তা নিয়ে চিন্তিত জেলা প্রশাসনও। চাষীদের চাষযোগ্য প্রায় কয়েকশো বিঘা জমির গঙ্গায় তলিয়ে যাওয়ায় চাষীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তাদের রুজি রোজগার হারানোর আশঙ্কায়। স্থানীয় চাষী চিন্তা রায় ও মনোরঞ্জন চৌধুরী জানান তাদের দুই বিঘা করে জমি গঙ্গা গ্রাস করে নিয়েছে। যেটুকু জমি এখনো বেঁচে আছে তার ওপর ভরসা করেই সংসার চলছে। কিন্তু যেভাবে গঙ্গা বিধ্বংসী রূপ নিয়ে এগিয়ে আসছে তাতে কতদিন সেই জমি রক্ষা করতে পারবেন তা তারা জানেন না।

গুপ্তিপাড়া ১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ নাগ জানান গুপ্তিপাড়ায় গঙ্গার মাঝখানে যেভাবে চর জেগে উঠেছে তাতে অবিলম্বে এই চরের ড্রেসিং ভালোভাবে না করা হলে গঙ্গার পাড়ের ভাঙ্গন আরো দ্রুত হবে। পাশাপাশি মধ্যিখান দিয়ে চর জেগে উঠায় বড় বড় পণ্যবাহী জাহাজ গুপ্তিপাড়ার দিক দিয়ে যায়। তখন জলের ঢেউ পাড়ে এসে আঘাত করায় ভাঙন তরান্বিত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর মাঝখান দিয়ে চর জেগে ওঠায় গঙ্গার জলস্রোত ওই চরে বাধা পেয়ে গুপ্তিপাড়ার দিকে পাড়ে আঘাত করছে। আপাতত ফেরিঘাট থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত ১২৫ মিটার বালির বস্তা ফেলে গঙ্গার পাড় বাঁধানোর কাজ চলছে। বিডিও অফিস থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ও ৬০০০ বস্তা এবং গুপ্তিপাড়া এক পঞ্চায়েত থেকে ২০ হাজার টাকা ভাঙন রোধের জন্য দেওয়া হয়েছে যা পর্যাপ্ত নয়। গ্রামবাসীরা চাঁদা তুলে ছয় হাজার বস্তা বালি দিয়েছে। কিন্তু গঙ্গার এই সর্বগ্রাসী ভাঙন রোধে যদি কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়ে না আসে তবে আগামী দিনে গুপ্তিপাড়া গঙ্গা-বক্ষে বিলীন হয়ে যাবে।