হাওড়া,২৯ ফেব্রুয়ারি:- হাওড়ায় যুবকের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু।এলাকার মানুষের ধারণা পারিবারিক অশান্তির জেরে তিনি গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। শনিবার সকালে ঘর থেকে দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন দমকল কর্মীরা। এরপর তাকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার শিবপুরের কাজীপাড়ায়। মৃতের নাম সৈয়দ আবু জায়েদ ওরফে রাজ (৩১)। তিনি ওয়াকফ বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীর গত কয়েকদিন ধরেই অশান্তি চলছিল বলে প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন। শুক্রবার তা চরম পর্যায়ে পৌঁছলে সৈয়দের শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়িতে আসে এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যায়।
এতেই চরম অপমানিত হয়ে সৈয়দ আত্মঘাতী হয়েছেন কিনা, নাকি ঘরে আগুন লেগে দুর্ঘটনার কারণে এই মৃত্যু পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রথমে সিলিং থেকে দড়ি লাগানো হয়। এরপরে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হন সৈয়দ। স্ত্রীর সঙ্গে কেন অশান্তি হত তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। আবার একইসঙ্গে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কারণ আছে জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত। পুলিশ জানিয়েছে, বন্ধ ঘরের মধ্যে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। শরীরের উপরের অংশ পুড়ে গিয়েছিল। কাজিপাড়ার বাড়িতে শুক্রবার রাতে তিনি একাই ছিলেন। ঘরের মধ্যে আগুন ধরে যায়। প্রতিবেশীরা দমকলে খবর দেন। দমকলের ১টি ইঞ্জিন আসে। দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওনার পরিবার গিয়েছিল বর্ধমানে। বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। তিনি চেন স্মোকার ছিলেন। সিগারেটের ফুলকি থেকে আগুন, নাকি গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা পুলিশ তা তদন্ত করে দেখছে। প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি যাওয়া নিয়ে কয়েকদিন আগে থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম অশান্তি হয়েছিল। স্ত্রীর কাছে দিল্লি যাওয়ার টাকা চেয়েও পাননি সৈয়দ। তিনি ওয়াকফ বোর্ডে চাকরি করলেও সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাতেন তার স্ত্রী। স্ত্রীর কাছেই টাকাপয়সা থাকত। শুক্রবার বিকেল চারটে নাগাদ তার স্ত্রী পরিবার নিয়ে বর্ধমানে চলে যান। এরপর ঘরে একাই ছিলেন সৈয়দ। সকালে ঘরের দরজা ভেঙে অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়।https://youtu.be/cH9978zNJc0





