হুগলি, ২৩ ফেব্রুয়ারি:- ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন ২১ মিলিয়ন ডলার মোদির জন্য বিজেপির জন্য পাঠানো হয়েছিল গত নির্বাচনে। আর আমরা জানি ২০১১ নির্বাচন থেকে বিদেশের টাকা তৃণমূলের জন্যও ঢুকেছে। ভোট লুট করার জন্য।মানুষের ভোটকে অনুপ্রাণিত করার জন্য বিজেপি তৃণমূল উভয়েই এই বিদেশী টাকা ব্যবহার করেছে। সেই কারণে কেউ কাউকে দোষারোপ করে না। আমাদের সময় যখন ভোটার টার্ন আউট ৮৮- ৯০ শতাংশ হতো। তখন বলতো রিগিং হয়েছে।আর এখন টার্ন আউট বাড়ানোর জন্য আমেরিকা টাকা দিচ্ছে। আমরা বলছি শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক।কারণ বিদেশের কাছে আমাদের মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশ নয় ভারতের ব্যাপার। আমাদের দেশে প্রাচীন গণতন্ত্র বলে আমরা গর্ব করি। সেই গণতন্ত্রের সর্বনাশ করার জন্য বিদেশ থেকে টাকা নিই। হয় সেপত্র প্রকাশ করুক নয়তো তদন্ত করুক কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার। ১৯৯৭ সালে আমাকে চেয়ারম্যান করে কমিটি হয়েছিল। বিজিবি সরকার আসার পর সেই কমিটি নস্যাৎ করেছে আজ পর্যন্ত আর কোনো কমিটি তৈরি হয়নি। বিদেশী টাকা কার মারফত কোন রুট দিয়ে আসে কোথায় যায় সেটাই জানা দরকার। জাতীয় ঐক্য গণতন্ত্র দেশের নিরাপত্তার জন্য জানা দরকার। ভোটের রিগিং করার জন্য যদি টাকার ব্যবহার করা হয় তাহলে তো সরাসরি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ বিদেশি শক্তির।
সেলিম বলেন, মহিলা এবং নতুন প্রজন্মকে কিভাবে নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু আশানুরূপ হয়নি। আরো অনেকটা পথ যেতে হবে। আমরা বিজেপি তৃণমূলের বাইনারি ভাঙ্গার চেষ্টা করছি। যখন চোর ধরো জেলভর বলেছিলাম তখন আমরা বলিনি বিজেপি বা তৃণমূল। কিন্তু মানুষ বুঝেছিল বিজেপি আর তৃণমূল উভয়ই চোর। কখনো কখনো ঝান্ডা পাল্টায়। তারপর আমরা বললাম নাটক ছেলে বিচার করো আর জি করের মাথা ধরো। আমরা তো বিজেপি তৃণমূল বলিনি। কিন্তু যে বিজেপি লম্ফঝম্পা করে নেমেছিল দেখা গেল বিজেপি আর তৃণমূল এক হয়ে সিবিআই আর কলকাতা পুলিশ এক হয়ে যাতে মাথা না নড়ে তার ব্যবস্থা করছে। লোকসভা নির্বাচনে বিদেশ থেকে টাকা এল ডলার এলো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে ব্যবহার করা হলো। ও মুর্শিদাবাদে অধীর আর মোহাম্মদ সেলিম যাতে হারে তার জন্য বেলডাঙ্গা গন্ডগোল করলো। একজনকে তার জন্য পদ্মশ্রী দিয়েছে আরেক জনকে বিভূষণ দেবে। চোর না সাধু সেটা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। বিজেপি না তৃণমূল সেটা নিয়ে সন্দেহ নেই। দক্ষিণ পন্থার যখন উত্থান হয় যে পুঁজিপ্রতি যে চোর জোচ্চর লুটেরা দের জন্য সর্বনাশ হয়।জীবন জীবিকা আবাস শিক্ষা সব চলে যায় অধিকার চলে যায়।তারাই এবার ত্রাতা হিসেবে ফিরে আসার চেষ্টা করে।
যারা অর্থনৈতিক ভাবে সামাজিক ভাবে পিছিয়ে খেটে খাওয়া মানুষ এই মানুষগুলোর কাছে আবার যেতে হচ্ছে আরো বেশি করে যেতে হবে। আমাদের যে জনবিচ্ছিন্নতা হয়েছিল আমরা স্বীকার করেছিলাম সেটাকে কাটাতে হবে। সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল সেটাকে আমরা কাটাচ্ছি।সবটা কাটিয়ে উঠেছি সেটা বলব না। সে কারণে মানুষ ফিরছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটেছে। প্রতিরোধের স্পৃহা জেগেছিল। আর জি করের ঘটনায় হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল বিচার চাওয়ার দাবিতে। তারা এ রাজ্যেরই তো বাসিন্দা। আরো আন্দোলন হবে আরও সংগ্রাম হবে। একশ দিনের কাজ নিয়ে বিজেপি তৃণমূল মিলে নাটক করছে।টাকাটা আদায় করবে কে। বামপন্থীরাই। গরিব মানুষের টাকা। স্কুলের ড্রপ আউট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগে আমরা বলতাম বিহার মধ্যপ্রদেশ উত্তর প্রদেশ রাজস্থান নিয়ে। এখন সবাইকে ছাপিয়ে গেছে পশ্চিমবঙ্গ। গরিব মানুষ সরে যায়নি তারা স্কুল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য থেকে সরে যাচ্ছে। বামপন্থীরা এদের নিয়ে লড়াই করবে। ফিরে আসছেন আরো বেশি করে। আমাদেরও যে গাফিলতি আছে সেটাকে দূর করে এগোতে হবে। সম্মেলন করার ক্ষেত্রে প্রচুর মানুষ সাহায্য করেছে। তারা সবাই সাধারণ মানুষ মধ্যবিত্ত ব্যবসায়ী চাষী। ২০১৬ সালে বাম কংগ্রেসের জোটে জয় নিশ্চিত ছিল।
টাকা ব্যবহার করে মানুষের মতকে প্রতিফলিত হতে দেওয়া হয়নি। সেই কারণে মানুষকে সংগঠিত করে সেই শক্তি অর্জন করতে হবে যাতে বুথে মানুষের মতকে প্রতিফলন করা যায়। এখানে বুথ শুধু নয় গণনা কেন্দ্র লুট হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টিতে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকগুলো বিষয় দেখা হয়। তাদের স্পট করা থেকে প্রশিক্ষিত করা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা থেকে বেশ কতগুলি ধাপ বেরোতে হয়। কম্যুনিস্ট পার্টিতে এটাই নিয়ম। এটা করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় দুর্বলতা আছে। অনেকের এই কাজে অনীহা দেখা যাচ্ছে। এটা কারো মসৃণ করতে হবে ।প্রকাশ করা তো সে কথাই বলেছেন। বয়স্করা অপাংক্তেয় নয়। জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ হচ্ছে যুব।তা রিফ্লেকশনটা হওয়া দরকার। কর্মী তৈরি করার ক্ষেত্রে আরো যত্নবান হতে হবে। এই চেষ্টা আমরা করেছি। নটোরিয়াস পুলিশ অফিসার চন্ডীতলা থানার। ১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচন চুরি করার জন্য কাউন্টিং সেন্টার থেকে ধরে ধরে বের করার জন্য উনি ছিলেন আইসি। তাকে অন্য তারা ঘুরিয়ে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। পুলিশ ফোর্সকে এরা ডিমলাইজ করে। বলদা সে যত রকমের অপরাধ করে। দুর্ভাগ্য আমাদের।








